রাকসুর দায়িত্ব শেষ, শিক্ষার্থীদের ‘ওপেন প্রশ্নোত্তরে’ মুখোমুখি হতে চান আম্মার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে নিজের কাজের হিসাব দিতে চান। নিজের সফলতা, ব্যর্থতা ও ভুলের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে ‘ওপেন প্রশ্নোত্তর’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ আগ্রহের কথা জানান আম্মার।
ফেসবুক পোস্টে আম্মার বলেন, ‘আমার রাকসুর দায়িত্ব শেষ। এবার আমার পালা জবাব দেওয়ার। আমার সফলতা, ব্যর্থতা, যতটুকু চেষ্টা করেছি, যতটুকু ভুল করেছি সবকিছুই আমার শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া কেন্দ্রীয় শহীদমিনার প্রাঙ্গনে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ প্রার্থীদের নিয়ে নানা আয়োজন করেছিল। প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা, ইশতেহার ও অবস্থান নিয়ে কথা বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেছিলেন।আমার মনে হয় নির্বাচনের পর এমন একটি আয়োজন আরও বেশি জরুরি। কারণ নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে,এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের হিসাব শোনার সময়।’
প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রস্তাব দিয়ে আম্মার বলেন, ‘ফটোকার্ড বানিয়ে আমি আমার কাজের আপডেট দিতে পারি কিন্তু সেটি সবার কাছে পৌঁছাবে না। প্রেস ব্রিফিং করতে পারি সেখানেও হয়তো পুরো বক্তব্য আপনাদের কাছে পৌঁছাবে না, কোনো কোনো বক্তব্য আংশিকভাবে কাটা বা উপস্থাপিত হতে পারে। তাই আমি চাই এমন একটি ওপেন প্রশ্নোত্তর আয়োজন হোক। যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আসবে,সরাসরি প্রশ্ন করবে, প্রতিনিধিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে আর প্রতিনিধি সরাসরি জবাব দেবে। আমি সফল হই বা ব্যর্থ,আমি আমার শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হতে চাই।’
আপনারা আমার কাজের সমালোচনা করবেন, প্রশ্ন করবেন, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি সেটা বলবেন, কোথায় ভুল করেছি সেটা দেখিয়ে দেবেন। কেউ হয়তো কঠিন ভাষায় কথা বলবেন, কেউ হয়তো প্রশংসা করবেন, কেউ হয়তো সংশোধনের পরামর্শ দেবেন। আমি সব শুনতে প্রস্তুত। কারণ প্রতিনিধি হওয়ার অর্থ শুধু নির্বাচনের সময় ভোট চাওয়া নয়,দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও নিজের কাজের হিসাব দেওয়ার সাহস রাখা।’
‘আমি দাবি করছি না যে আমি সবকিছু সফলভাবে করতে পেরেছি। আমি দাবি করছি না যে আমার কোনো ভুল হয়নি।আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যতটুকু সামর্থ্য ছিল, যতটুকু সময় ছিল, যতটুকু পারি চেষ্টা করেছি। এবার সেই চেষ্টার হিসাবটাও আপনাদের সামনে দিতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা কোনো মেইনস্ট্রিম মিডিয়া চ্যানেল চাইলে এমন একটি আয়োজন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি সংলাপ হতে পারে। কোনো স্ক্রিপ্ট নয়,কোনো সাজানো প্রশ্ন নয়,কোনো কাটা-ছেঁড়া নয়। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করবে,প্রতিনিধিরা জবাব দেবে। আমি এই আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। কারণ শেষ পর্যন্ত পদটি আমার ছিল না,দায়িত্বটি ছিল আপনাদের। আর সেই দায়িত্বের হিসাবও আপনাদের কাছেই দিতে চাই।’