২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৪

আসামে নিপীড়ন ও মসজিদ ভাঙচুরের প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিবাদ  © টিডিসি ছবি

ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়াম (রাইয়ান)-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাঈম আবেদীন। এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) শাখা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ভারত আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার সবক দিতে আসে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, যাদের কাছে কোনো সংখ্যালঘুই নিরাপদ নয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, ভারত এই অঞ্চলের নতুন ইসরায়েলে পরিণত হয়েছে। দেশটি বর্ণবাদী নীতি ব্যবহার করে ইসরায়েলি কায়দায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের তাবেদারি বন্ধ করে সীমান্তে পুশ-ইন এবং বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকা পৃথিবীর সব নিপীড়িত ও নির্যাতিত জাতির কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদের কালো ছায়া থেকে ভারতের মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান ও নিম্নবর্গের হিন্দুদের বাঁচাতে হবে। সংখ্যালঘু দমনে বিজেপি সরকার ইসরায়েলের অনুসরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, আসামে মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভাঙচুরের মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন ও গণহত্যার নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি সরকার মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করে নাগরিকদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

এছাড়াও , বিজেপি সরকারের বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে ভারতের জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান হাসিবুল ইসলাম।

মানববন্ধনে বক্তারা ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ভোট ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে ভিন্নমতের মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নতজানু নীতি পরিহার করে অবিলম্বে জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের দাবি জানান তারা।