সাজেকে আন্দোলনকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের নিন্দা ছাত্র ইউনিয়নসহ ৬ সংগঠনের
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের অভিযোগ তুলে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। এ ঘটনায় ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে পাহাড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের নগ্ন চিত্র বলে মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চলছে। পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমনে ‘সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী’ তকমা দিয়ে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘পাহাড়ে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব না’ এমন মন্তব্যও তারা অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য পাহাড়ি জনগণের ওপর দমন-পীড়নকে প্রকাশ্যে আইনি বৈধতা দেওয়ার শামিল।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর সাজেকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী নিজেদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সম্মতি তৈরির লক্ষ্যে মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি গ্রুপ সৃষ্টি করে পাহাড়ে অরাজকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকবাসী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাজেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা পাহাড়ি জনগণের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেছে। এ হামলা প্রমাণ করে, দেশের সর্বত্র জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ। তারা সাজেকের জনগণের ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সেনাসদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি সাজেকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট বন্ধে অবিলম্বে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীন।