২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৯

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া রাবি ছাত্রী চেসি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’, রয়েছেন লাইফ সাপোর্টে

চেসি ত্রিপুরা  © টিডিসি সম্পাদিত

অটোরিকশায় ও ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রী চেসি ত্রিপুরার ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম।

আহত চেসি ত্রিপুরার সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, চেসির ব্রেইনে এতটাই গুরুতর আঘাত লেগেছে যে মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে ভেতরের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ব্রেইনে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া ভেতরে ব্লিডিং আর ক্লটিং হয়েছে। তার ব্রেইন এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এই অবস্থা থেকে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে তার ফুসফুসে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানো হচ্ছে। সেই সাপোর্টের কারণে হার্ট ও শরীর সচল আছে। এ ধরনের অবস্থায় রোগীকে ৫-৬ দিন বা তারও বেশি সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও ব্রেইনের অ্যাক্টিভিটি ফিরে আসে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সর্বশেষ আপডেট নিয়ে অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, চেসি ত্রিপুরা ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’। তার ব্রেন আর কাজ করছে না। চিকিৎসকেরাও আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় এখনও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া ফিরে আসা সম্ভব নয় বললেই চলে। গত দুই দিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি হাসপাতালে আছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় অটোরিকশার সাথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) আইসিইউ ভর্তি করানো হয়। 

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।