২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩০

‘ইনক্লুসিভ’ বিচারক প্যানেল করায় ডিজির কাছে বিচার, ‘গুপ্ত’ ট্যাগে পদ গেল দুই ছাত্রদল নেতার

সামসুল হক আনান ও নাফে বিন মামুন (নাফিস)  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘ইনক্লুসিভ’ বিচারক প্যানেল তৈরি করে আজীবনের জন্য পদ হারিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের দুই নেতা। ওই অনুষ্ঠানের পর ‘গুপ্ত শিবির’ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে বিটিভি মহাপরিচালকের কাছে ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটিতে (ডিইউডিএস) ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা এক ‘মানবাধিকারকর্মী’র অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত ঢাবি ছাত্রদলের নেতারা হলেন— শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল হক আনান ও শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য নাফে বিন মামুন (নাফিস)। এর মধ্যে সামসুল হক আনান ২০২৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সামসুল হক আনান এবং নাফে বিন মামুন (নাফিস)-কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো।’

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং সংগঠনটির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহিষ্কৃত নাফে বিন মামুন (নাফিস) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিটিভিতে আমরা একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই মূলত ঘটনাটি ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম; যিনি এর আগে ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটিতে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন—তিনি বিটিভির ডিজির কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, আমি নাকি গুপ্ত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে অনুষ্ঠানের বিচারকদের যে তালিকা তৈরি করেছিলাম, সেখানে আমি সব পক্ষের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সেখানে বামপন্থী ডিবেটর যেমন ছিল, তেমনি ডানপন্থীসহ বিভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছিল। আমার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) তালিকা তৈরি করা। এ বিষয়ে আমাকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তালিকা তৈরির সঙ্গে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী যুক্ত ছিল।

নাফিস বলেন, মূলত বিচারকদের তালিকায় শিবির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমের অভিযোগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের রেফারেন্স ছিল বলেও জানতে পেরেছি। এছাড়া সামসুল হক আনান ভাই; যিনি আমাকে বিটিভির ডিজির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাকেও গুপ্ত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একজনের সঙ্গে আরেকজনের যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে আমার ধারণা।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন রিসিভ করেননি। ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।