জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মাঠে নামেনি ঢাবি
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বৈধ ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দল। খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ না পাওয়ার অভিযোগে ঢাবি দল মাঠে না নামায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭ (ছাত্রী) বিভাগের খেলাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ঢাবি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিমলা খাতুন, জস্না, আনিকা, ফরিদা, প্রিয়াঙ্কা, তসলিমা, মাচিংনু, মাফুচিং ও মানচিং এই খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, যাচাইয়ের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের তথ্য ‘নট ফাউন্ড’ দেখায়। তবে মানচিংয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা সার্ভারের সমস্যার কথা জানান। অন্যদিকে, শিমলা খাতুন ও আনিকা সোরেনের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পাওয়া যায়নি। তারা নতুন ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হলেও তাদের ছাত্রত্ব যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ সময় তাদের তথ্য নতুন করে ইনপুট দিতে দেখা যায়।
ঢাবি দলের দাবি, খেলোয়াড়দের বৈধ ছাত্রত্বের প্রমাণ চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে ম্যাচে অংশ নেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল। এতে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্ভারের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানান। তবে সার্ভারের ত্রুটির কথা বলা হলেও ওই খেলোয়াড়েরা আদৌ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত শিক্ষার্থী কি না, তার কোনো বিকল্প প্রমাণ বা বৈধ কাগজপত্র তারা উপস্থাপন করতে পারেননি। যোগ্যতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না মেলায় ঢাবি দল প্রতিবাদ হিসেবে খেলায় অংশ নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক খেলোয়াড়ের বৈধ ছাত্রত্ব থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো খেলোয়াড়ের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথ প্রমাণ দেখাতে হবে। তারা কাউকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করতে চাননি; বরং অভিযোগের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ না পাওয়ায় সন্দেহ দূর হয়নি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনা এবারই প্রথম নয় বলেও দাবি করেন আরমান হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার দুই দিন আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার ম্যাচেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে ম্যাচ বর্জন করে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায়ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওই ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আরমান হোসেন বলেন, খেলোয়াড়দের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত চান। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজক হলেই যেন তারা নিয়মের ঊর্ধ্বে না থাকে, সে বিষয়েও জোর দেন তিনি।