সন্তানসহ জাবি শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে হত্যার হুমকির অভিযোগ ছাত্রীর বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষক ও তাঁর শিশু সন্তানকে অবরুদ্ধ করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিফা রাফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক রিফা তাসফিয়ার বোন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদাকে। অন্য সদস্যরা হলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তমালিকা সুলতানা। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসন-২ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর গত ৬ অক্টোবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছাঃ সাহিবা মাহবুব ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহসান ইমাম অভিযোগ করেন, গত ২ অক্টোবর জুমার নামাজের সময় তাঁদের সি-৪০ নম্বর বাসার দরজার গেট বাইরে থেকে আটকে দেন রিফা রাফিয়া। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজেই এ কাজ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক দম্পতি উল্লেখ করেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বরও রিফা রাফিয়া ভবনের নিচের কলাপসিবল গেট এবং তাঁদের বাসার বাইরের গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তিনি দরজায় বারবার আঘাত করেন এবং তাঁদের ও তাঁদের শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেন। পরে নিচে গিয়ে উচ্চ স্বরে চিৎকার করে তাঁদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বোন ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক রিফা তাসফিয়া বাসায় উপস্থিত ছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনার পর অভিযুক্তের বোন বা তাঁর পরিবারের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অনেকে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে অভিযোগে দাবি করেন শিক্ষক দম্পতি।
শিক্ষক দম্পতি জানান, ঘটনার পর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে একটি ছিল হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগসংক্রান্ত। অন্যটি ছিল ঘটনার দিন ভবনে উপস্থিত রিফা তাসফিয়ার পরিবারকে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে।
অভিযোগে তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষিত ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণ অস্বাভাবিক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিফা রাফিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।