১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০০

একদিনের জন্য ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল

একদিনের জন্য ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্ব নিলেন এইচএসসি ছাত্রী শীতল  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি হিসেবে একদিনের জন্য প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শীতল। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শীতল অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

শীতল রাজধানীর একটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রতীকী দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেছেন, শিক্ষার সত্যি কোনো বিকল্প নেই, আর এই মুহূর্তে আমাদের হাতে যে সময়টুকু আছে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

এই শিক্ষার্থীর কাছে প্রতীকী দায়িত্ব হস্তান্তর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শীতলের মতো প্রতিটি কন্যার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার দরজা খোলা রাখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকারে বিনিয়োগ একটি সমতাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি।

শীতল বলেন, স্যারের দেওয়া উপদেশ ও শিক্ষাগুলো আমি আজীবন মনে রাখব। নিজের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোর জন্য আজ নিজেকে আগের চেয়েও অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ মনে হচ্ছে।

‘গার্লস টেকওভার’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শীতল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামনে আনেন।

একইসঙ্গে তিনি যুবনারীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি স্বাধীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুর শিক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন যুব ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের সাথে কাজ করেছেন শীতল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার এ প্রতীকী দায়িত্ব পালন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য—‘End child marriage and invest in girls’ rights’। এর অর্থ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে এবং কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছরের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।