০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২০

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত সমকাল-ডেইলি স্টার-বিডিনিউজ রিপোর্টারসহ অনেকে

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত সমকাল-ডেইলি স্টার-বিডিনিউজ রিপোর্টারসহ অনেকে  © টিডিসি সম্পাদিত

ভিডিও ধারণ করার জেরে সাংবাদিকদের মারধর করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১০ জনের বেশি সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে বলে জানা গেছে। আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এছাড়া আরও দশ জন সাংবাদিক আহত হন। বর্তমান তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

অপরদিকে ছাত্রদলের অভিযুক্তরা হলেন-রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ৮-১০ নেতাকর্মী।

সরেজমিনে ও প্রতক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, আজ রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এসময় তাদের হাতে বস্তা ভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। পরে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেইটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। পরে আজকের পত্রিকা প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে সেখানে বিডিনিউজ ২৪.কম-এর প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু করে। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে দেন।

হামলায় আহত এক সাংবাদিক

সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে সেখানে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আগামীর সময় প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলে তাদের পুতে ফেলার হুমকি দেন শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব।

জানা যায়, এ ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পালটাপালটি পোস্ট করেন। 

গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন৷ ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।...’এরপর ছাত্রদলের ওই নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এসে অবস্থান নেন৷ এ সময় তারা নৃশংসভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।