০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০২

খরচ জোগাতে নিঃস্ব পরিবার, টাকার অভাবে থমকে যাওয়ার শঙ্কায় চবি ছাত্র মোশারফের চিকিৎসা

চবি ছাত্র মোশারফ হুছাইন  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মাত্র ২৬ বছর বয়সেই থমকে গেছে মোশারফ হুছাইনের রঙিন জীবন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই স্নাতকোত্তর (এমএ) শিক্ষার্থী এখন জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। পড়াশোনা শেষ করে যেখানে নতুন স্বপ্ন বুুনবার কথা ছিল, সেখানে গত এক বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন তিনি।

মোশারফ হুছাইনের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তার বাবা গ্রামের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। মা গৃহিণী। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে মোশারফ বড়। ফলে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পরিবারের হাল ধরার কথা ছিল তার, কিন্তু এরই মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিঃস হয়ে গেছে পরিবারটি।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মোশারফ ‘সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সারে’ আক্রান্ত। গত ২২ এপ্রিল থেকে তিনি ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতোমধ্যে পরিবারের প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তাঁকে ছয় ডোজ কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিপুল ব্যয়ের পর মেলেনি কাঙ্ক্ষিত উন্নতি, ফলে তার পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় মোশারফের পরিবার এখন নিঃস্ব। মোশারফের চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ জীবনের জন্য তার আরও উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সংকট এতটাই প্রকট যে পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহর করা আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যান্সার আক্রান্ত মোশারফ হুছাইন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করেছি। কিন্তু মাস্টার্সের ফর্ম ফিলআপ করে পেমেন্ট করার ঠিক পরপরই ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাই এ বছর আর পরীক্ষাটা দেওয়া হয় নাই। এখন আমার কেমোথেরাপি চলছিল। কিন্তু শেষের থেরাপিটা কোনো কাজই করে নাই, সমস্যাটা আরও একটু বেড়েছে। অথচ ইতোমধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে। প্রথমদিকের কেমোতে একটু কাজ হলেও শেষের কেমোগুলোতে টোটালি কাজ না করায় ফিউচার নিয়ে একটু হতাশ হয়ে গেছি।

তিনি বলেন, ডাক্তাররা এখন নতুন করে কিছু দামী ‘টার্গেটেড ইনজেকশন’ থেরাপির কথা বলছেন। ৬-৭টা ইনজেকশন দিয়ে ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে ওটা দিলেও যে শতভাগ ভালো হবে—তা কনফার্ম করে বলতে পারছেন না। কারণ আমার ‘প্রাইমারি সোর্স’ আননোন (অজানা) থাকায় ডাক্তাররাও সঠিক ট্রিটমেন্ট একবারে ডিসাইড করতে পারছেন না; একটাতে কাজ না হলে আরেকটা দিয়ে ট্রাই করার প্রক্রিয়ায় আছেন।

এখন যে ইনজেকশন দিতে চাচ্ছেন, তার এক একটার দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে জানিয়ে মোশারফ বলেন, আমরা যে রকম অ্যারেঞ্জ করে দিতে পারবো, ওনারা সেটাই দেবেন। এরকম প্রায় ৬ থেকে ৮টা ইনজেকশন লাগতে পারে। প্রতি ৩টা দেওয়ার পর আবার ফলোআপ করে দেখা হবে।

চিকিৎসার খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যে ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, তার পুরোটাই আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের সহযোগিতায় করা হয়েছে। এখন ফান্ড বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই ফলোআপের এই গ্যাপটার মধ্যে টাকা জোগাড় করে পরবর্তীতে আবার নতুন থেরাপি নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।

এদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক দাস (২৪) তিন বছর ক্যান্সারের সাথে লড়ে অর্থসংকট ও ব্যাধির কাছে হেরে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। অর্থের অভাবে মোশারফের জীবন প্রদীপও যেন এভাবে নিভে না যায়—এই আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সবার একটুখানি সহযোগিতা ও সহমর্মিতাই পারে মোশারফকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

আর্থিক সহযোগিতার তথ্য
বিকাশ/নগদ: +880 1869-561939 (পার্সোনাল, রোগী)
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
A/N: 20507770232337809
Islami Bank, Ilishia Branch