সাদিক কায়েম বললেন— ‘বিএনপি সরকার হাসিনার থেকেও বড় ‘হাসিনা' হতে চাচ্ছে’
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন বিষয়ে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে বিএনপি সরকারকে হাসিনার থেকেও বড় 'হাসিনা' উল্লেখ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, কিছুদিন আগে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একইভাবে গণহারে অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও সমালোচনার মুখে পড়ে অনেককে আবার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক দলীয়করণের অন্যতম একটা মাস্টারপ্ল্যান আমরা হাসিনার আমলে দেখেছি। এখন জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসে তারেক রহমান তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছেন। সরকারি চাকরিকে দলীয় লোকদের জন্য সীমিত করে শিক্ষিত প্রজন্মকে দলদাসে পরিণত করতে এত আয়োজন। এখন তো রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ্যে ভাইভাতে সুপারিশের কথা বলছে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত ছিল চাকরিতে কোটা বৈষম্য সহ সকল বৈষম্য দূরীকরণ, দলীয় পরিচয়ে কাউকে সুবিধা না দেওয়া। আমাদের সংবিধানও তাই বলে। সকাল বিকেল সংবিধানের ব্যাখ্যা ও বুলি আওড়ানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদ পড়তে ভুলে গেছেন যে, "প্রজাতন্ত্রে চাকরির ক্ষেত্রে সকলে সমান সুযোগ লাভ করবে।"
ডাকসু ভিপির বক্তব্য, ২৭ লক্ষ বেকারের দেশে বেকারদের প্রতি প্রতিনিয়ত জুলুম করে যাচ্ছে সরকার। একদিনে বড় কোনো নিয়োগ নেই, আবার অন্যদিকে দলীয় নিয়োগকে শক্ত করার সব আয়োজন চলছে। ভাইভাতে ৪০০% পর্যন্ত নম্বর বৃদ্ধির সুপারিশ, তার উপর ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রতিটি নিয়োগে।
নির্লজ্জ দলীয়করণ করতে গিয়ে বিএনপি সরকার হাসিনার থেকেও বড় 'হাসিনা' হতে চাচ্ছে। আপনাদের এই স্বপ্ন পূরণ হবে না। আপনারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে মানুষের অসন্তোষ, রাগ আর ঘৃণা টের পাচ্ছেন না। আপনাদেরকে বলব, ইতিহাস ভুলে যাবেন না। তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে আপনারা হাসিনা হতে চাইলে হাসিনার মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে আপনাদেরকে।