২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫০

বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগ: চবিতে যাত্রা শুরু কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের

বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগ: চবিতে যাত্রা শুরু কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যাত্রা শুরু করলো ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধন হয়। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাইনিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কনফারেন্সে’ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন

অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি শুধু চীনা ভাষা শেখানোর কেন্দ্র নয়, বরং দুই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আধুনিক উন্নয়ন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের মাধ্যমে একাডেমিক গতিশীলতা, আন্তর্জাতিক গবেষণা, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য চাও চুনমিন বলেন, ইয়ুননান প্রদেশ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করবে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ইনস্টিটিউটটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করা হবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে এটি চতুর্থ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রথম প্রতিষ্ঠান। চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইনস্টিটিউটটি কাজ করবে।