২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৯

ভোরের নীরবতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা মিলল মায়া হরিণের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা মায়া হরিণ  © টিডিসি

পাহাড়, ঝরনা আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোরের নীরবতায় এবার দেখা মিলেছে মায়া হরিণের। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া হলের খোলা উঠোনে হঠাৎই একটি মায়া হরিণকে ঘোরাফেরা করতে দেখে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন হলটির বাসিন্দা ও হল সংসদের নির্বাহী সদস্য উম্মে হাবিবা। 

ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য চিত্রের সাক্ষী হয়েছেন উল্লেখ করে উম্মে হাবিবা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দূরে হরিণের মতো একটি প্রাণী চোখে পড়ে। তবে তখনো স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। প্রাণীটি কিছু একটা খাচ্ছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল কুকুর কিংবা বুনো ছাগল। পরে তার মাথা ওঠানো-নামানোর ধরন দেখে বুঝতে পারি, এটি সম্ভবত একটি হরিণ। এরপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে হলের চতুর্থ তলা থেকে দ্রুত নিচে নেমে যাই।’

উম্মে হাবিবা আরও বলেন, ‘নিচে গিয়ে দেখি, মাঝারি আকৃতির একটি মায়া হরিণ দূরের ঝোপঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে সেটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। মনে হচ্ছিল, যেন খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার কাছে আসতে চাইছে। হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিল, হয়তো কোনো অভিযোগ কিংবা নিছক উচ্ছ্বাস ছিল তার চোখে। কিছুক্ষণ সে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল। মুহূর্তটি এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে, আমি নিজেও স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর হঠাৎ কী ভেবে যেন দৌড়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এত কাছ থেকে তাকে দেখেছি যে, আমার দিকে এগিয়ে আসা ও তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি দেখে একসময় আমিই কিছুটা ভয় পেয়ে আর সামনে এগোতে পারিনি। ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে এই মুহূর্তটি। মাঝে মাঝে ভাবি, ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, অথচ চোখে পড়ার মতো তেমন কিছুই তো দেখলাম না। হয়তো আল্লাহ আমার সেই আক্ষেপটুকুও কবুল করে নিয়েছেন’, বলেন শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা।

চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমুরারি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে। হরিণগুলোর বিচরণস্থলকে অবাধ ও নিরাপদ রাখতে বিকেলে ক্যাম্পাসের গহিনে প্রাণীদের চলাচল স্থলে হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।