জাকসুর উদ্যোগে ২৫ লাখ টাকায় জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় মেডিকেল সেন্টারের ল্যাবে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ, হেলথ চেকআপ ডিজিটাল মনিটর ও এক্স-রে ফিল্ম ভিউয়ার সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি রোগীবান্ধব একাধিক ট্রলি, ছয় শয্যার ডাবল-ফাংশন ইমার্জেন্সি বেড, পাঁচ টন এসি এবং আবাসিক হল ও মেডিকেল সেন্টারের জন্য ২২টি হুইলচেয়ার যুক্ত করা হবে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো জাবি মেডিকেল সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ শয্যাবিশিষ্ট একাধিক ওয়ার্ড স্থাপনের কাজও শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাকসু।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘ঢাকা থেকে দূরে হওয়ায় জরুরি চিকিৎসায় আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। শত বাজেট ঘাটতি ও সরঞ্জামের অভাব সত্ত্বেও জাকসুর উদ্যোগে প্রাপ্ত ২৫ লাখ টাকার অনুদান দিয়ে আজ সেই চিকিৎসাসংকট দূর করার দারুণ সূচনা হলো।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের সুযোগ্য অ্যালামনাই ও সাবেক জাকসু নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এলে আমরা জাহাঙ্গীরনগরকে আরও দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। যাঁরা এই ঐতিহাসিক কাজের শুভ সূচনা করলেন, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এই কেন্দ্রটি দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ নেবে—এই প্রত্যাশায় জাকসু মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’
এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘২৫ লাখের বেশি টাকার এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ আমাদের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর আওতায় জাবি মেডিকেল সেন্টারের ল্যাবে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ, হেলথ চেকআপ ডিজিটাল মনিটর, এক্স-রে ফিল্ম ভিউয়ার, রোগীবান্ধব ট্রলি, ছয় শয্যার ডাবল-ফাংশন ইমার্জেন্সি বেড, পাঁচ টন এসি এবং হল ও মেডিকেল সেন্টারের জন্য ২২টি হুইলচেয়ার সংযোজন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবারের মতো জাবি মেডিকেল সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০ শয্যাবিশিষ্ট একাধিক ওয়ার্ডের কাজ শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় আরও বিভিন্ন ধরনের ল্যাব ইকুইপমেন্ট সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
জাকসুর জিএস জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া এ প্রকল্পে স্পন্সর করেছেন বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজিস্ট ও বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে জাকসুর নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।