জাকসুর শেষ দিনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) দায়িত্বের শেষ দিনে দিনব্যাপী ‘শেষ বিকেলের উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে। এতে উদ্যোক্তা মেলা, মেহেদি উৎসব ও ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখাসহ বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাকসু ভবনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাকসুর দায়িত্বের শেষ দিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ আয়োজন। উদ্যোক্তা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। পাশাপাশি ছিল মেহেদি উৎসব ও জাকসুকে চিঠি লেখার আয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনিমা পাটোয়ারী বলেন, ‘গত এক বছরে জাকসু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রশ্নের মধ্যেও তারা প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে ভূমিকা রেখেছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাকসুর সদস্য ও সম্পাদকদের সহজে কাছে পেয়েছি এবং আমাদের সমস্যাগুলো তাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পেরেছি। জাকসু না থাকলে এভাবে প্রশাসনের কাছে পৌঁছানো অনেক কঠিন হতো। তাই আমরা চাই, দশম জাকসুর মেয়াদ শেষে একাদশ জাকসু নির্বাচনও দ্রুত অনুষ্ঠিত হোক।’
জাকসুর কার্যকরী নারী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, ‘গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নেন এবং দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু ভবনের তালা খোলে। এরপর এক বছর ধরে জাকসুর ভিপি-জিএসসহ প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন। বিভিন্ন বাধা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। আমাদের ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিছু কাজ বাজেট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ দশম জাকসুর শেষ বিকেলের উৎসবে আমরা নারী প্রতিনিধিরা একসঙ্গে হয়েছি। ক্যাম্পাসের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কোনো আশ্বাস এখনো পাইনি। তবে আমি আশাবাদী, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জাকসু যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করবে।’
জাকসুর দায়িত্বশীলরা জানান, আয়োজনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।