১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৮

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে এক টাকাও নেননি মুসাদ্দিক, ১২ মাসে প্রকাশ করেছেন ২৮টি বই

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২০২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের এক বছরে তিনি ডাকসু বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ বা উত্তোলন করেননি। বরং বরাদ্দ সংকটের কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গত এক বছরে নিজের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন মুসাদ্দিক। লিখেন, ‘ডাকসু দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে প্রতিদিন কি করেছি— তা দিনলিপি হিসেবে একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করার অভিপ্রায় রয়েছে, আমি শীঘ্রই সেটি প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।’ তুলে ধরেন নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্যও। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হয়।

মুসাদ্দিক লিখেন, ‌‌‘গত এক বছর শুধু পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে গিয়েছি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। শুধু নিজের আত্মসম্মান এবং আমার উপর শিক্ষার্থীরা যে আস্থা রেখেছেন, সেটির রক্ষার তাগিদে প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। পরিচিত ও অপরিচিত অনেক শিক্ষার্থী, বন্ধু, সিনিয়র ভাই ও আপু, ছোট ভাই, ছোট বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

তার ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম যে, আমার জন্য যারা এত পরিশ্রম করেছেন, দিন শেষে বিজয়ী হওয়ার পর যদি আমি তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি—যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আমার পক্ষে ভোট চেয়েছেন—তাহলে তাঁদের মুখ কালিমালিপ্ত হবে; তারা তাদের নিজ নিজ সার্কেলে আমার কারণে ছোট হবে। আমার সহপাঠী, ছোট ভাই, ছোট বোন ও সহযোদ্ধারা যে আস্থা ও সম্মান নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সেই সম্মান রক্ষা করা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে কারণেই আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন মেয়াদকাল শেষে অন্তত শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেই আস্থাটুকু অক্ষুণ্ন রেখে তাঁদের প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করে দায়িত্বটি শেষ করতে পারি। তার জন্য গত একবছর আমি এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করিনি। প্রতি মুহূর্তই শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছি, তারপরও থামিনি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে গিয়েছি অব্যাহতভাবে।’

ডাকসুর উদ্যোগের প্রকাশিত গ্রন্থ

ডাকসু নেতা লিখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিচার করবে। ১৯-এর ডাকসু তো শিক্ষার্থীবিরোধী ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সময় হয়েছিল, তারপরেও সেই ফ্যাসিবাদী প্রশাসন ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ডাকসুকে বরাদ্দ দিয়েছিল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দিয়েছিল মোট ৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এবারের ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মাত্র দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমার কাছে মনে হয়েছিল এই অপমানজনক বরাদ্দ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে তারা যে প্রতারণামূলকভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে একটা ভিক্ষামূলক বরাদ্দ দিয়েছে, সেটিকে বৈধতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমার দাবি ছিল বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে বাজেট পাশ হতে হবে এবং বিগত ৩৫ বছর (১৯ এর ডাকসু আগের ২৮ বছর এবং পরের ৬ বছর এবং ১৯-সহ মোট ৩৫ বছর) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসু বাবদ যে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, সেই চাঁদার টাকার হিসাব দিতে হবে এবং ১৯ এর ডাকসুকে দেওয়া ১.৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দের অডিট সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আমি বাজেট গ্রহণ করব না, আমাদেরকে যে বরাদ্দ দেওয়া হবে সেটাও গ্রহণ করব না। সেজন্য আমি এই বরাদ্দটি গ্রহণ করিনি। এই বাজেটকে অনুমোদনও করিনি। ডাকসুর ফান্ড থেকে আমি একটি টাকাও উত্তোলন করিনি।’

মুসাদ্দিক লিখেন, দীর্ঘদিন আমরা অপেক্ষা করেছি; আন্দোলন করেছি যে, প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে এবং সম্মানজনক বরাদ্দ আমরা পাব, কিন্তু পাইনি। যে কারণে আমাদের প্রতিটা কাজই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যানেজ করে করতে হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আমরা অনেকগুলো প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম, অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশ ও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। ফান্ড ক্রাইসিস এর কারণে সেগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারিনি। যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, যে লেখালেখির আহ্বান করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, সেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা সেই লেখাটি প্রকাশ করতে আমাদের সেপ্টেম্বর মাস অর্থাৎ ৮ মাস লেগে গেছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার একমাত্র কারণ ছিলো ফান্ড সংকট।

তিনি আরও লিখেন, ‘আমি বিভিন্ন ছোট-বড় মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় দেড়শতের মতো একক আয়োজন গত এক বছরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে করেছি। এর মধ্যে প্রকাশনা বের করেছি প্রায় ২৮টির মতো। এর বাইরে অসংখ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সকল আয়োজনে সকলের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে।’

স্ট্যাটাসের নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্য উল্লেখ করেন মুসাদ্দিক। এর মধ্যে রয়েছে- ১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০১ আভাস ২. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০২ প্রকাশ ৩. সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এর শাহাদাৎ বার্ষিকী- ২০২৫ উপলক্ষ্যে স্মারকগ্রন্থ "তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ" ৪. ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা শহিদ ফেলানী ৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মারকগ্রন্থ- ২০২৫ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার ৬. 'মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ' কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা ৭. ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগি-বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ৮. ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৯. ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ ১০. অবাঙালি অর্থাৎ চাকমা, মারমা, সাাঁওতাল ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্মারক গ্রন্থ- ২০২৬ বহুমাত্রিক ১১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০৩ প্রতিভাস ১২. গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান ১৩. শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন বারুদমাখা কথামালা ১৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য গেস্টরুম-গণরুম এর বই এর ব্রেইল ভার্সন। ১৫. ক্যাম্পাসে দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিভে যাওয়া জীবন প্রদীপ স্মারক গ্রন্থ-২০২৫ রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৬. ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারক-২০২৫ হাতেখড়ি ১৭. নবাব সলিমুল্লাহ স্মারক গ্রন্থ- ২০২৬ ইশারাত মনজিল ১৮. জুলাই বিপ্লব গল্প সংকলন 'মহাকালের মর্সিয়া' ১৯. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে লেখা জুলাই- জনতার অভ্যুত্থান ২০. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: শ্রাবণের কান্না ২১. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ধূসর কৃষ্ণচূড়া ২২. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ব্যারিকেডের ওপারে ২৩. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া ২৪. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে ভেজা জুলাই. ২৫. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লস্করহাট ২৬. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লাল জুলাইয়ের দিনগুলো ২৭. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ইলিশ ফাইল ২৮. এফ আর হলে হল সংসদের সাথে যৌথভাবে দেয়াল পত্রিকা স্থাপন।