১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৮

এবার ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আজমের ছবি লাগাল ছাত্রদল কর্মীরা

মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আজমের ছবি পদদলিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের ছবি লাগিয়ে পদদলিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যানারে ছাত্রদলের কর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

ছবি পদদলিত করা শিক্ষার্থীরা জানান, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি লাগানোর প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ, ইংলিশ ফর স্পিকার্স অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেসের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশ শামস, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ, হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের শিক্ষার্থী মঈন উজ জামান রিমেল এবং আইইআর বিভাগের শিক্ষার্থী রেজোয়ান আহমেদ রাহাদ প্রমুখ। 

তাদের দাবি, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানাতেই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে লাগিয়ে পদদলিত করেছেন।

কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, যার কি না ইশতেহারে ছিল মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা তিনিই একজন পাকিস্তানপন্থীকে ডাকসু সংগ্রহশালায় দেয়ালের মধ্যে সম্মানের সহিত তার ছবি লাগাতে চেয়েছে। ক্ষমতা দেখিয়ে সে এটা করেছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থীদের ক্ষমতা দিয়ে, আমরা গোলাম আযম এবং জিন্নাহর ছবি, পাকিস্তানপন্থীদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থীদের রাজনীতি সামনে আনানো যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করত। এখানে স্পষ্ট যে, শেখ মুজিবের ছবির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে তারা জিন্নাহ এবং গোলাম আযমের ছবি আনতে চেয়েছে।

আরও পড়ুন: ডাকসু থেকে জিন্নাহর ছবি সরানোর আল্টিমেটাম ছাত্রদলের, পদক্ষেপ দাবি জুলাই স্তম্ভ নিয়েও

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখাকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষে গত রবিবার ডাকসু সংগ্রহশালাটি চালু করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। তবে নতুন করে পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পায়।

এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) একটি অনুষ্ঠানের। ওই অনুষ্ঠানে জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পাশাপাশি তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবিও স্থান পায়। এসব তথ্য প্রকাশের পর গত রবিবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়।

এর আগে, গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবসংস্কার করা সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপনের প্রতিবাদে সেগুলো ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলেন এক শিক্ষার্থী। উর্দু বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ছবিগুলো ভাঙচুর করেন।