১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯

‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’— হলের ভিপিকে শাসালেন ছাত্রদল নেতা

বা দিক থেকে প্রথমে ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিন ও পরে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ভিপি রিপুল চাকমা  © টিডিসি সম্পাদিত

অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য মিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল পরিদর্শনে গেলে হলের ভিপিকে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক পিটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হলটির ৩১৩ নম্বর কক্ষে গেলে হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন চবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিন।

হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। তবে সেখানে অবৈধভাবে থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়।

ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব।’ তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেওয়ার পর হুমকি দেন তিনি।

হল ছাত্রসংসদের ভিপি রিপুল চাকমা বলেন, ‘গত পরশুদিন আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে আসে এবং বলে সে ৩১৩ নম্বর রুমে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। সেখানে একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা রুম থেকে একটি সিট নিয়ে সেখানে দিয়েছে। এ হলেই সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে।’

তবে নাছিম উদ্দিনের গালি দেওয়ার অভিযোগে রিপুল চাকমা বলেন, ‘আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি’।

অভিযুক্ত নাছিম উদ্দিন আজ সকাল ৯টায় মুঠোফোন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হ্যা আমি তাকে এই হুমকি দিয়েছি। আসলে বিষয়টা তখন হিট অব দ্যা মোমেন্ট ছিল। তখন সে খারাপ ব্যবহার করছিল, তখন বলেছি আরকি। ওই সময় তার কিছু ছেলে-পেলে ছিল। সে আমাকে এবং আমার আম্মাকে বাজে ভাষায় বকছে, তাকে তো এই রাইটস কেউ দেয় নাই। সে ভিপি হোক বা যাই হোক, একজন স্টুডেন্টকে সে বাজে ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। ওর সাথে এক ছেলে ছিল, কি যেন চাকমা নাম, ওইটাই আগে বাজে ভাষায় বকছে। তারপর আমার রাগ উঠছে।’

অতীশ দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই। তারা অতিথি ছিল, ঘুরার জন্য এসেছিল। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।’

এ ঘটনায় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’