১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৭

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরে আবু তৈয়বের সঙ্গে ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাও

ছবি ভাঙচুরের সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা মামুন, ইনসেটে নওফেলের সাথে  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ এবং ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ছবি ভাঙার ঘটনায় অংশ নিয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাও। আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছবির ফ্রেম ভাঙচুর ও ছবি ছিঁড়ে ফেলেন ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। এ সময় তার সঙ্গেই ছিলেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় আবু তৈয়ব হাবিলদারের সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগ নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের টিপু-সুজন কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী সিএফসি গ্রুপের নেতা। ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার এবং সরবরাহকারী।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেটির প্রচারও করেছেন আল মামুন। সেখানে তিনি নিজেকে এই ঘটনার ‘সরাসরি যোদ্ধা’ হিসেবেও তুলে ধরেছেন।

ফেসবুকে লিখেছেন মামুন

অপর এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ চিহ্নিত রাজাকার ডাকসু প্রজন্ম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ছবি টাঙ্গিয়ে ছিলো --মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া *সবার উপরে ডাকসু'র ভিতরে! কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। ---ইতিহাস কি মুছা যায় এত সহজে!’

ডাকসুর সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি প্রতিস্থাপনের পর থেকেই বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন’ পর্বে যুক্ত করা এই ছবিটি ছিল ১৯৪৮ সালে প্রথমবার ঢাকায় এসে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর দেওয়া একটি ভাষণের, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর নাম ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে সোমবার দুপুরে ডাকসুর সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখান থেকে ছবিটি সরিয়ে তার ফ্রেম ভাঙচুর করেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। একইসঙ্গে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের একটি ছবি ভাঙচুর করেন। ওই ছবিতে জিন্নাহর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র। নির্বাচনে তিনি ১০টি ভোট পান।

মামুনের ফেসবুক পোস্ট

ছবি ভাঙার আগে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট ছিল। ধারাবাহিকভাবে জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অঞ্চলের পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। সেই বক্তব্যটি আমরা ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছি। ছবির নিচে ক্যাপশনটি ইংরেজিতে ছিল এবং সেখানে তার বক্তব্য সরাসরি কোট করে লেখা ছিল। আমরা দেখিয়েছি, এর পরেই ভাষা আন্দোলনের বাকি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।’