ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাবির ৪৮ শিক্ষার্থী, ৩১ জনই ছাত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩১ জনই ছাত্রী বলে জানা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২২ ও ২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, পাঁচ বছর বিরতির পর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তিন শিক্ষাবর্ষের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছাত্র এবং ৩১ জন ছাত্রী। এ ছাড়া সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুইজন শিক্ষককে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—
২০২১ শিক্ষাবর্ষের ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।
২০২২ শিক্ষাবর্ষের সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।
২০২৩ শিক্ষাবর্ষের লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম এবং মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।
ঢাবির জনসংযোগ দফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; তাদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাবিকে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাবিকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এ পুরস্কার তাদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে। সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।’
তিনি বলেন, ঢাবিকে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।