১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৭

ডাকসুর অনার বোর্ড থেকে বাদ গোলাম রাব্বানী, নেই রাশেদও

মো. রাশেদ খাঁন ও গোলাম রাব্বানী।  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ডাকসুর কর্মকাণ্ডের স্মৃতি সংরক্ষণে ডাকসুর সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে আজ। সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। 

সংস্কারের মধ্যে ডাকসুর সংগ্রহশালায় নতুন অনার বোর্ড লাগানো হয়েছে। অনার বোর্ডে ১৯২৪-২৫ সেশন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৫-২৬ সেশন পর্যন্ত সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম রাখা হয়েছে। তবে অনার বোর্ডে সকলের নাম উঠে আসেনি। 

দেখা যায়, অনার বোর্ড থেকে ২০১৯-২০ সেশনের ঘোষিত বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ঘোষিত মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখা হয়নি। 

জানা যায়, ২০১৯ সালের নির্বাচনে ঘোষিত বিজয়ী (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় গত ৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় রাব্বানীর ডাকসু পদও বাতিল করা হয়। পাশাপাশি ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২য় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত মো. রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করে সিন্ডিকেট।

এ দিকে আজ রবিবার বেলা ১২টায় এ সংগ্রহশালার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। সংস্কার কাজের সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। 

নাম না থাকার বিষয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, আমাদের কারো নামই লিখতে সমস্যা নাই। আগের সকলের নামই লেখা আছে। যেহেতু এটা বিতর্কিত (ডিসপিউটেড) বিষয়, সেহেতু বিষয়টি বাদ রাখা হয়েছে। যখন এটা নিয়ে সুরাহা হবে, তখন অবশ্যই নাম যুক্ত করা হবে। 

এর আগে নতুন রূপ পাওয়া ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনকালে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক এই সম্পাদক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য ডাকসুর সংগ্রহ শালা রয়েছে। এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগ্রহশালা জরাজীর্ণ অব্স্থায় ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেটি আরও অত্যাধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটির সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোন করা হলো।

জুমা বলেন, আমরা আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় এটিতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংযোজন করব। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহার, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ড এটিতে স্থান পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে সংগ্রহশালায় নতুন নতুন উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে তা সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হবে। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে।