১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৫

অযোগ্যতা প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কাই ‘শিক্ষক মূল্যায়ন’ প্রক্রিয়া চালুর পথে বাধা

ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন   © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর আলোচনা এক দশকের বেশি সময় ধরে চললেও এখনো তা কার্যকর না হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষকদের অযোগ্যতা প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কাকে দায়ী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন কামরুল হাসান মামুনের ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়ন প্রথা চালু হবে হবে করতে করতে দশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেল—তবু এটি এখনো কার্যকর হয়নি। কিন্তু কেন চালু হয়নি? আমার মনে হয়, যাদের অযোগ্যতা প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে তাদের সংখ্যা যেহেতু বেশি তাই নানা অজুহাতে তারাই এই প্রক্রিয়া চালুর পথে বাধা দিয়ে আসছেন।

অনেকে বলেন, শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত; ফলে শিক্ষক মূল্যায়নে তার প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে—শিক্ষকদেরই বা রাজনীতি করতে হবে কেন? তাছাড়া, শিক্ষক মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের রাজনৈতিক মতভেদের বড় ধরনের প্রভাব পড়ে—এমনটা আমি মোটেও মনে করি না। আমি নিজে বহু বছর ধরে—মাঝে মাঝে বিরতি থাকলেও—প্রতিটি কোর্সের শেষ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ফর্ম বিতরণ করে পূরণকৃত ফর্ম কালেক্ট করেছি। ফর্ম দিয়ে আমি তাদের বলি, নাম বা পরিচয়ের কোনো চিহ্ন না রেখে স্বাধীনভাবে যেন ফর্মটি পূরণ করে। সাধারণত একজন অফিস সহকারীকে ফর্মগুলো দিয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে যাই; পরে সেই অফিস সহকারী পূরণ করা ফর্মগুলো আমার কাছে পৌঁছে দেয়।

আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করি। এসব মতামত অনেক সময় কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থের বিরোধিতাও করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে ঐসব মূল্যায়ন ফর্মে কোন অশালীন ভাষায় কিছু লিখতে দেখিনি। তারা সমালোচনা করেছে, প্রশংসা করেছে এবং কীভাবে আরও ভালোভাবে পড়ানো যায়, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছে, কিন্তু সেইসব করেছে অত্যন্ত কন্সট্রাক্টিভলি। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষকে তার মতামত প্রকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিসর দিতে হয়। আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়নের সুযোগ দিই বা না দিই, শিক্ষার্থীরা কিন্তু নিজেদের মধ্যে শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করে এবং মতামত প্রকাশ করে। পার্থক্য শুধু এই যে, সেই মতামতগুলো আমাদের অগোচরে থেকে যায়। তাহলে তাদের মতামত শুনলে ক্ষতি কী? বরং এই মূল্যায়ন-পদ্ধতি শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল হতে শেখায়—সংযত ভাষায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে এবং যুক্তিসংগত সমালোচনা করতে শেখায়।