ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে জাকসু ভিপির সংশ্লিষ্টতার তদন্তসহ ছাত্রশক্তির ৬ দাবিতে মানববন্ধন
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর কথোপকথন ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাকসু ও হল সংসদের নেতাদের আবাসনসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, কর্মচারী পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে ওঠা অসঙ্গতির অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, অটোরিকশা ও দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি এশী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল আলম শেখের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ছাড়া আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে জাকসু ভিপিসহ সংশ্লিষ্টদের কথোপকথন ও চ্যাট ফাঁসের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসন আবাসনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের আশ্বাস দিলেও সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, আবাসনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রশাসনের গড়িমসি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রতি অটোরিকশা থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। এ অভিযোগের পাশাপাশি জাকসু ভিপিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
সংগঠনটির জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপির বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও উন্নয়নকাজ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। টেন্ডার ছাড়া জরুরি কাজ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগগুলোও তদন্ত করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল আলম শেখের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে জাকসু ভিপির কথোপকথন ও চ্যাট ফাঁসের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলে পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা।