রাবিতে নবীনবরণে গোলাম আযমের ‘মনটাকে কাজে দিন’, ছাত্রদল-বাম নেতাদের ক্ষোভ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজ দিন’ বই উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা সমালোচনা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, নবীনবরণের নামে একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে সাধারণীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বইটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের নর্মালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। শিবিরের নবীনবরণে মাথাপিছু সহস্রাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এটা কোনো শিক্ষার্থীসুলভ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নয়। এখানে দেশি-বিদেশি বাংলাদেশবিরোধী শক্তির বিনিয়োগ নেই—তার নিশ্চয়তা কী?
তিনি আরও বলেন, আমরা হস্তক্ষেপমুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন চাই। তবে দেশবিরোধী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি জরুরি।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাবি শাখার সদস্য সচিব ওয়াজিদ শিশির অভি বলেন, গোলাম আযমের বই বিতরণকে আমরা নিছক বই উপহার হিসেবে দেখছি না। এটি তার রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক পুনর্বাসনের চেষ্টা। ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঠেকাতে লেজুড়বৃত্তিমুক্ত ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, নবীনবরণ আয়োজনের আড়ালে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক মতাদর্শের বই তুলে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গোলাম আযমের লেখা বই নবীনদের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, এটা নিয়ে আমরা এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। যখন এটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হবে, তখন আমরা এটার ক্লিয়ারেন্স দেবো। যতক্ষণ বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে না, ততক্ষণ এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি না।