১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৩

টেকসই উন্নয়নে ফিনটেক ও সবুজ অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরল বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

রাবিতে রিসার্চ আউটকামস ডিসেমিনেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট সেশন' শীর্ষক অনুষ্ঠান  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সবুজ কর, আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, ফিনটেকের বিস্তার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূমিকা নিয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, সবুজ অর্থায়ন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত 'রিসার্চ আউটকামস ডিসেমিনেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট সেশন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ফলাফল তুলে ধরা হয়। 

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। গবেষণাটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পাঁচটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও যৌথভাবে যুক্ত ছিল মালয়েশিয়ার ইনটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, পুত্রা বিজনেস স্কুল (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

গবেষণাটির শিরোনাম ছিল ‘আনভেইলিং দ্য রোলস অব গ্রিন ট্যাক্স, ফাইন্যান্সিয়াল ডেভেলপমেন্ট, ব্যাংকিং ডেভেলপমেন্ট, ফিনটেক অ্যাডপশন, অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ।’ আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা Elsevier-এর ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট সাসটেইনেবিলিটি’ নামক Q1 মানের আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। 

গবেষকরা জানান, গবেষণায় ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে সবুজ কর (Green Tax), আর্থিক উন্নয়ন, ব্যাংকিং উন্নয়ন, ফিনটেক গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশের টেকসই উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল নিয়ে তারা জানান, ফিনটেকের উন্নয়ন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে সবুজ অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

গবেষণায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে ESG (Environmental, Social and Governance)-ভিত্তিক কার্যক্রম, সবুজ ঋণ এবং টেকসই অর্থায়ন নীতি আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সবুজ প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণার নীতিগত গুরুত্ব নিয়ে জানানো হয়, সরকার কার্যকর সবুজ কর নীতি, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ কাঠামো ও টেকসই অর্থায়নের উপযোগী নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফিনটেকের বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ও সবুজ ব্যাবসার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

গবেষক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অ্যাকাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কার্যকর নীতি প্রণয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ভবিষ্যতেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণার এই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অন্য বক্তারা।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. কানিজ হাবিবা আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ. কে. এম. আমিরুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ সোহরাব আহমেদ, গ্রামীণফোনের রাজশাহী অঞ্চলের মার্কেটিং প্রধান নাদিম শাহরিয়ার, 
সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সাহেদুল বাসার, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার তন্বী রানী দত্ত, সোনালী ব্যাংকের মৌগাছী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার (প্রিন্সিপাল অফিসার) মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যরা।