১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪০

জাকাতের টাকায় উন্নয়ন করেছে ডাকসু, দৃঢ় বিশ্বাস হামিমের

জাকাতের টাকায় উন্নয়ন করেছে ডাকসু, দৃঢ় বিশ্বাস হামিমের  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হমিম ইসলামি ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘বহির্বিশ্বের বিভিন্ন এরাবিক কান্ট্রির কাছে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ‘মিসকিন-এতিম’ সাজিয়ে জাকাতের টাকা এনে এখানে উন্নয়ন করেছে।’

সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ছাত্রদলেন এই নেতা।

সাক্ষাৎকারে হামিম বলেন, ‘তারা (ছাত্রশিবির) বহির্বিশ্বের বিভিন্ন এরাবিক কান্ট্রির কাছে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ‘মিসকিন-এতিম’ সাজিয়ে জাকাতের টাকা এনে এখানে উন্নয়ন করল কিনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলে তারা নাকি ৩৫ কোটি টাকার কাজ করেছে। আমার তো সন্দেহ হচ্ছে, কেন না এই জামায়াত ইসলামী তাদের মাদার অর্গানাইজেশন নির্বাচন আগে বলেছিল নির্বাচিত হলে বহির্বিশ্বের যে জাকাতের টাকা সেগুলো এনে দেশের মানুষকে সহযোগিতা করবে। আমার মনে হচ্ছে এবং সন্দেহ হচ্ছে এই ডাকসুতে শিবিরের নেতৃবৃন্দই তো তথাকথিত ডাকসুর নেতৃবৃন্দ।’

উন্নয়ন বরাদ্দের খরচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে। এই মসজিদে উন্নয়ন তারা করেছে। অর্থাৎ যেখানে ফ্যান ছিল সেখানে তারা এসি লাগিয়েছে। এই উন্নয়ন করেছে তারা পাঠাগারে। বিভিন্ন কোম্পানি সিএসআর ফান্ড অথবা বহির্বিশ্বের দেশগুলোর কাছে থেকে জাকাতের ফান্ড এনেছে আমাদেরকে মিসকিন দেখিয়ে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে বলব আপনারা ডাকসু নেত্রীদের কাছে প্রশ্ন করবেন ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ৩৫ কোটি টাকা কোথা থেকে পেলেন তার একটি সোজা হিসাব নিকাশ কিন্তু আপনাদের দেওয়া উচিত। কারণ ফান্ডিং কোথা থেকে আসলো, আমাদেরকে কি সাজিয়ে আনল? 

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে গত নির্বাচনে রোজার মাসে তারা ইফতারি দেওয়ার সময় তুর্কি লোককে এনে নগদ টাকা দিয়েছিল। জাকাতের টাকা ঠিক একইভাবে আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরা যারা মেরুদন্দওয়ালা শিক্ষার্থী, যারা বাংলাদেশের বিবেক সকলে বলেন আমাদেরকে তারা এতিম মিসকিন বানালো কিনা? এই প্রশ্ন আমার মনে আছে, আমি জানি আপনারা যে এটি প্রচার করবেন। নিচে নীলফামারী স্কুলের বা নীলফামারী কলেজের অথবা দেখা যাবে খুলনার একটি কলেজ বা স্কুলের অথবা বট আইডি সবাই এটার শতভাগ সফলতা লিখবে। কিন্তু আমি চাই আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আজকে কমেন্ট করুক, ঢাকা বিশ্ব শিক্ষার্থীরা আজ এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিক। তারা উত্তর দিতে ভয় পায়। কেননা আগে ছিল ছাত্রলীগ, মত প্রকাশ করলেই ছাত্রলীগ তাদেরকে অারেস্ট করাতো, মাইর দিত। আর বর্তমানে এই শিবির এই জামাতের বট, বট আইডিগুলোর সন্ত্রাসীর কারণে মানুষ মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছে।,

এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আমি বলব ঢাবির শিক্ষার্থীরা আপনারা যদি উত্তর দিতে ভয়ও পান, ‘এখানে বট আইডি থেকে আপনাদেরকে আক্রমণ করাবে। আপনারা বিবেকের কাছে প্রশ্নগুলো করবেন। পরিবর্তনগুলো হয়েছে কিনা?  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাঁচটি যে বেসিক রাইট রয়েছে- আবাসনের সমস্যা, ভালো খাবারের সমস্যা, ভাল পানি, বিশুদ্ধ পানি এমনকি একাডেমিক্যাল এরিয়ায় যে চেঞ্জেস আসার কথা সেগুলো এসেছে কিনা? এটা আমার থেকে শিক্ষার্থীরা ভালো বলতে পারবে। আমি তো মতামত দিয়েছি, কারণ আমি অনেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছি। কথা বলে দেখেছি তারা প্রত্যেকে বলছে এই ডাকসু সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।’