ডাকসুর উদ্যোগে ৪টি স্মারক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসুর) উদ্যোগে প্রকাশিত ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্পাদিত "মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ' কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা", "২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগি-বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান", "৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস," এবং "ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ" মোট ৪টি স্মারক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডাকসুর সভাকক্ষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুস্তিকাগুলোর সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ডাকসু কর্তৃক কবি ফররুখ আহমদকে প্রকাশিত এই পুস্তিকাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অনন্য এক ঘটনা। কবি ফররুখ আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একজন পথিকৃৎ অথচ তাকে দশকের পর দশক ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। আমরা সর্বজনীন কাজ করছি। আজ আমরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে,২৮ অক্টোবরের লীগের বর্বরতার ইতিহাস নিয়ে এবং আবরার ফাহাদের আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সংগ্রাম নিয়ে আয়োজিত ৪টি সেমিনারের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য সম্পাদিত করে এই ৪টি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। কবি ফররুখ নিয়ে পুস্তিকায় যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, আবরার ফাহাদ স্মারক পুস্তিকায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদি, ২৮ অক্টোবর স্মারক পুস্তিকায় বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মারক পুস্তিকায় ড. মাহদী আমিনের বক্তৃতাসহ সেমিনারের গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতাগুলো ছাপানো হয়েছে।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, আজকের এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে ডাকসু অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে সকলকে ধারণ করে কাজ করেছে। ডাকসু যেমন ২৮ অক্টোবর নিয়ে বই প্রকাশ করেছে তেমনি বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্রাত্য হয়ে থাকা কবি ফররুখকে ডাকসুর পক্ষ থেকে স্মরণ করা হয়েছে। আমরা এই পুস্তিকা গুলোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, আজকের এই ০৪ টি পুস্তিকা ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে থাকবে এবং কেউ চাইলেই যে সত্য মুছে ফেলতে পারে না যতটা শক্তিশালী সে হোক না কেন তার প্রমাণ এটি। যে বিষয়গুলো ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তা এখন ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার। অতীতে সংঘটিত এসব ঘটনার সুষ্ঠু নথিবদ্ধকরণ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে একই ধরনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে না পারে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করবে এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের জাতীয় ঐক্য ও আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রতীক। কবি ফররুখ আহমেদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরূত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিক্ত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহী জনতাকে সাথে নিয়ে যে বিপ্লব করেছিলেন তা দীর্ঘমেয়াদে এদেশের মাটি ও মানুষের জন্য মুক্তি এনে দিয়েছে আজ। ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়ংকর কালো অধ্যায়। এই দিন আমরা দেখেছি কীভাবে লীগের সন্ত্রাসীরা লগিবৈঠা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মানুষ হত্যা করে তার উপর নৃত্য করেছিল। আমরা এসব ইতিহাস এই কাজের মাধ্যমে জাতির জন্য দলিল হিসেবে রেখে যাচ্ছি।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই ভয় দেখানো, আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না; এটি হবে জ্ঞানচর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র। ফ্যাসিবাদীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী তার রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা অবস্থানের কারণে নিপীড়নের শিকার হবে না। ডাকসু শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে এই পরিবর্তনের ধারাকে এগিয়ে নিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
পুস্তিকাগুলোর সহ সম্পাদনায় রয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, হোসাইন আহমেদ জুবায়ের, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস, সুহাইল মাহদীন।
অনুষ্ঠানে "মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ' কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা", "২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগিবৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান", "৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস," এবং "ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ" সর্বমোট ০৪টি স্মারক পুস্তিকা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে সৌজন্য কপি প্রদান করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
পুস্তিকার সহ সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সম্পাদক এবি জুবায়ের, আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ও সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ এবং হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুস্তিকার সহ সম্পাদক সাইমুম ফেরদৌস সৌরভ,আশফাক উল্লাহ আসিফ সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।