১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭

গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি: আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা

ঢাবি শিক্ষার্থী জাকির হাসান সাগর মিয়া  © সংগৃহীত

২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি পলাতক শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে ‘গেস্টরুম ও গণরুম’ শব্দগুলোই ছিল দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়তি। যেখানে শিক্ষার্থীদের আর্থিক পিছুঠানের সুযোগ নিয়ে গভীর রাতে মৌখিকভাবে হেনস্তার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন করতেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতারা। রাজনৈতিক কর্মী বানানোর লক্ষ্যে ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে ১০ গুণ শিক্ষার্থীর আবাসন ‘গণরুম’। 

সেই গণরুম-গেস্টরুমের ভয়াল স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে ‘গেস্টরুম-গণরুম; নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শিরোনামে একটি স্মৃতি সংকলন প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু) । পাঠকদের জন্য সেই গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কয়েকটি স্মৃতি কথা তুলে ধরেছে  দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। 

গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি: আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা

২০২২ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে পা রেখেছিলাম, তখন চোখে ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন আর বুকভরা আশা। কিন্তু মাস্টারদা সূর্যসেন হলের বারান্দায় পা রাখার পরপরই সেই স্বপ্নগুলো অঙ্কুরে বিনষ্ট হতে শুরু করে। হলের তথাকথিত ‘ম্যানার’ শেখানো, ‘গেস্টরুম’ প্রোগ্রাম আর ‘গণরুম’ সংস্কৃতির সাথে আমার পরিচয় ঘটে, যা ছিল আমার কল্পনারও বাইরে। আমি এখানে আমার সাথে ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি।

ঘটনা ১ : আমার বুকে পা দিয়ে লাথি মারা।

ঘটনার স্থান: কক্ষ নং- ৬২৬ (গণরুম),

মাস্টারদা সূর্যসেন হল ঘটনার, সময়: জুন, ২০২২ (সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যবর্তী সময়)।

ঘটনাটি ২০২২ সালের জুন মাসের। ঐ দিন সকাল থেকে ক্লাস করে প্রচণ্ড ক্লান্ত শরীরে হলের ৬২৬ নম্বর গণরুমে এসে শুয়েছিলাম। সেদিন ছাত্রলীগের একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। কিন্তু ক্লান্তির কারণে আমার পক্ষে সেই প্রোগ্রামে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তখন আমি কেবল একটি প্যান্ট পরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, শরীরে কোনো গেঞ্জিও ছিল না। রুমে তখন অন্য গ্রুপের আরও কয়েকজন বন্ধু উপস্থিত ছিল। হঠাৎ করেই তিনজন ইমিডিয়েট সিনিয়র দরজা ধাক্কা দিয়ে রুমে প্রবেশ করেন। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রথম জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন, আমার গায়ে হাত দেন। দ্বিতীয়জন অতর্কিতে আমার পায়ে ল্যাং মেরে আমাকে মেঝেতে ফেলে দেন। আমি পুনরায় ওঠার চেষ্টা করছি, ঠিক তখনই তৃতীয় জন সজোরে আমার বুকে পা দিয়ে লাথি মারেন। আমি নিচে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারিনি। তাকিয়ে দেখি আমার অন্য গ্রুপের বন্ধুরা এই ঘটনাটি দেখে তারা থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার ইমিডিয়েট সিনিয়র ওদের বাহিরে যেতে বলে। ততক্ষণে আমার চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি পড়ছিল।

ঘটনাটি ছিল আমার লাইফের সবচাইতে নিষ্ঠুর একটি ঘটনা। আমার বাবা-মাও কোনোদিন আমার গায়ে হাত তোলেননি, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে তারা আমার বুকে লাথি মারলেন। এই ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ি। পড়াশোনায় মন বসানো আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় আমি ট্রমার মধ্যে কাটিয়েছি। কি করবো না করবো কিছু বুঝতে পারতেছিলাম না। বাইরে সাংবাদিকদের ঘটনাটি বলব এমন সাহস হচ্ছিল না। কারণ এটা করলে আমাকে হল থেকে বের করে দিবে। বাইরে থাকার মতো টাকা আমার পরিবারের পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব ছিল না ঐ সময়। এজন্য আমি ওই সময় চুপ ছিলাম ঘটনাটি নিয়ে। কিন্তু আমার এই ঘটনাটি আমার গ্রুপের প্রায় সব বন্ধু জানত। ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের ভয়ে তখন সবাই নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছিল।

বি. দ্র: ডাকসু যদি এই বিষয়ে আরও সাক্ষ্য প্রমাণ চায়। তাহলে আমি আরো কিছু প্রমাণ এবং ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখা ব্যক্তির জবানবন্দি দিতে পারি।

ঘটনা ২: প্রোগ্রামে গলা চেপে ধরে ধাক্কা দেওয়া

হলে তখন একটি কথা প্রচলিত ছিল- ‘ইসলামে যেমন রমজান মাস, আওয়ামী লীগে তেমন আগস্ট মাস।’ শোকের মাস হিসেবে পরিচিত এই আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামের চাপ থাকতো সবচেয়ে বেশি। এসব প্রোগ্রামে আমাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হতো।

শারীরিক কারণেই আমি খুব দ্রুত হাঁটতে পারি না। ফলে মিছিল বা প্রোগ্রামে সবার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে আমি প্রায়ই পিছিয়ে পড়তাম। সেদিনের প্রোগ্রামেও আমি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। এটা দেখে এক সিনিয়র আমাকে গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে দেয়। এবং অকথ্য ভাষায় (মাদার*** সামনে যা বলে গালি দেয়। সিনিয়রের কাছ থেকে এমন অমানবিক আচরণ আমাকে স্তম্ভিত করে দেয়। এই সিনিয়র ছিল আমাকে গণরুমে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া ঐ ইমিডিয়েট সিনিয়রটি।

ঘটনা ৩: গেস্টরুমে পরিচয় দেওয়ার নিয়ম

জাকির হোসেন সাগর

ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ।

কারমাইকেল কলেজ, গাইবান্ধা (নিজ জেলা) হলে উঠেছি অমুক ভাইয়ের মাধ্যমে

হল এর ম্যানার হলের কোনো বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হলে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করে নিজের নাম বলতে হবে। ভাই যদি ইমিডিয়েট সিনিয়র হন, যদি ভাইয়ের নাম্বার জানা না থাকে তাহলে। বলতে হবে ভাই আপনার নামের স্পেলিংটা। ওয়াশরুম, রিডিং রুম, পত্রিকার রুম, ক্যান্টিন এসব জায়গায় সালাম দেওয়া যাবে না।

গেস্টরুমে সঠিক সময়ে আসতে হবে শার্ট আর প্যান্ট ফোল্ট করা যাবে না। বাথরুমের স্যান্ডেল পরে গেস্টরুমে যাওয়া যাবে না। এসব নিয়ম আমরা খাতায় লিখে মুখস্ত করতাম এবং নতুন কেউ আসলে তাকে শিখিয়ে দিতাম। নতুন কেউ যদি কোনো ভুল করতো এই সব ম্যানারে, তাহলে আমরা যারা আগে থেকে হলে ছিলাম তাদের শাস্তি দেওয়া হতো।

ঘটনা ৪: গেস্টরুমের সাজা 

আমাদের হলে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই গেস্টরুম চলত। এর মধ্যে তিন দিন ছিল ‘বিগ গেস্টরুম’ আর তিন দিন ‘মিনি গেস্টরুম’। একদিন একটি মিনি গেস্টরুমে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় শাস্তি স্বরূপ আমার এক ইমিডিয়েট সিনিয়র আমাকে আদেশ দেন- মাস্টারদা’ সূর্যসেন হলের যতগুলো ওয়াশরুম আছে এবং যতগুলো সিঁড়ি আছে, সব গুনে এসে তাকে রিপোর্ট করতে হবে। প্রচণ্ড গরমে হলের এক তলা থেকে অন্য তলায় দৌড়ে সিঁড়ি আর ওয়াশরুম গুনতে গুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। যখন আমি সিঁড়ির সংখ্যা জানালাম, তখন তিনি বললেন সিঁড়ির গণনা ভুল হয়েছে। আমি ফাঁকি দিয়েছি। এজন্য স্রেফ আমাকে আরও বেশি হয়রানি করার জন্য তিনি আমাকে পুনরায় সিঁড়ি গোনার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনা ৫: 

সিঙ্গেল গেস্টরুমের নির্যাতন হলে বিগ গেস্টরুম ও মিনি গেস্টরুম ছাড়াও আরও এক ভয়াবহ কালচার ছিল, যাকে বলা হতো ‘সিঙ্গেল গেস্টরুম’। মূলত যাদের ওপর সিনিয়ররা বেশি অসন্তুষ্ট থাকতেন, তাদের শায়েস্তা করার জন্য পার্সোনালি সিনিয়রদের রুমে ডাকা হতো। একেই বলা হতো সিঙ্গেল গেস্টরুম। আমাকে বেশ কয়েকবার এমন সিঙ্গেল গেস্টরুমে ডাকা হয়েছিল। সেখানে কোনো সাক্ষী না থাকায় ইমিডিয়েট সিনিয়ররা আমাকে চরম অকথ্য ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতেন। একবার একজন ইমিডিয়েট বড় ভাই রাগের মাথায় আমার দিকে সজোরে পানির বোতল ছুড়ে মেরেছিলেন। সেই ব্যক্তিগত কক্ষে একাকী যে মানসিক আতঙ্ক আমি সহ্য করেছি, তা আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমাকে সূর্যসেন হল এর ৫৫১ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে সিঙ্গেল গেস্টরুম নেওয়া হতো।

ঘটনা ৬: রাতে হল থেকে বের করে দেওয়া 

প্রথম বর্ষে থাকাকালীন যেকোনো সামান্য ভুলের অজুহাতে আমাকে গেস্টরুমে হেনস্তা করা হতো। শাস্তি স্বরূপ প্রায়শই আমাকে রাতে হল-এ থাকতে দেওয়া হতো না, সিনিয়রা বলতো- ‘আজকে তোর হলে থাকা বন্ধ।’ এমনকি আমার পরীক্ষা বা প্রেজেন্টেশন থাকলেও তারা কোনো ছাড় দিত না। এমন অনেক রাত গেছে যখন পরদিন পরীক্ষা, অথচ তারা আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমি আশ্রয়ের স্বরূপ আমার বিভিন্ন বন্ধুদের হলে রাত্রি যাপন করতাম।

ঘটনা ৭: পায়রা চত্বরের পায়রা গোনানো ও বসুনিয়া তোরণের সাথে ছবি উঠানো

প্রথম বর্ষের শুরুতে সিনিয়ররা ‘ক্যাম্পাস চেনানো’র নামে আমাদের মানসিক নির্যাতন করত। গেস্টরুমে কোনো ক্যাম্পাসের স্থানের নাম জিজ্ঞেস করলে যদি বলতে না পারতাম, তবে সাজা হিসেবে সেই রাতেই হল থেকে বের করে দেওয়া হতো। আমাকে একবার ‘বসুনিয়া তোরণ’ কোথায় এবং ‘টিএসসির পায়রা চত্বরে’ কয়টি পায়রা আছে তা বলতে বলা হয়। আমি উত্তর দিতে না পারায় সেই রাতেই আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে মাঝরাতে গিয়ে পায়রা চত্বরের পায়রা গুনতে হয়েছে এবং বসুনিয়া তোরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সিনিয়রদের কাছে পাঠাতে হয়েছে।

ঘটনা ৮: রিডিং রুম থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া 

আমার মিড টার্ম পরীক্ষা ছিল। তৎকালীন হল ক্যান্ডিডেট রিডিং রুম থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যায় প্রোগ্রাম করানোর জন্য। যার ফলে পরীক্ষাও খারাপ হয়। এই ধরনের ঘটনা তৎকালীন সময়ে ছিল খুবই স্বাভাবিক। হল লন প্রশাসনও এসব বিষয়ে নীরব দর্শকের মতো কাজ করতো।

ঘটনা ৯: প্রোগ্রামের নামে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।

হল-এ রাজনৈতিক প্রোগ্রামের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে জুলুম চলত, তার মধ্যে অন্যতম ছিল দীর্ঘ সময় গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা। যেদিন কোনো প্রোগ্রাম থাকত, সেই প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে আমাদের গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা হতো এই দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আমাদের কোথাও যেতে দেওয়া হতো না। পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত কোনো কাজের সুযোগ ছিল না। একজন শিক্ষার্থীর কাছে সময়ের যে মূল্য, তা রাজনৈতি বড় ভাইদের কাছে ছিল একেবারেই তুচ্ছ। কেবল তাদের মিছিলে লোকসংখ্যা দেখানো জন্য আমাদের মূল্যবান সময়গুলোকে এভাবে নষ্ট করা হতো। এই দীর্ঘ সময় গেস্টরুমে বসে থাকা থেকে বাঁচতে আমি ও আমার বন্ধুরা ওয়াশরুমে লুকিয়ে থাকতাম।

ঘটনা ১০ : ৪২৬ নম্বর গণরুমের চিত্র

মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ৪২৬ নম্বর রুমে থাকাকালীন যে অমানবিক পরিস্থিতি মুখোমুখি হয়েছি, তা ছিল বর্ণনাতীত। একটি ছোট রুমে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে হতো। শোয়ার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রাতে যে যে পাশে (Side) হয়ে শুতাম, সারা রাত ঠিক সেই পাশ হয়েই থাকতে হতো। শরীরের পাশ পরিবর্তন করার মতো ন্যূনতম জায়গা ছিল না। সারা রাত এক পাশ হয়ে। শুয়ে থাকার ফলে শরীর অবশ হয়ে আসত, কিন্তু জায়গা না থাকায় নড়ার উপায় ছিল। পায়ের সাথে বা শরীরের সাথে লেগে থাকত। পশুর মতো এই গাদাগাদি জীবন ছিল না। রুমে দুই সারি করে শোয়ার ব্যবস্থা করা হতো, ফলে একজনের পা অন্যজনের। আমাদের প্রতিরাতের চিত্র।

আমি জাকির হাসান সাগর মিয়া এটা হলফ করে বলতে পারি যে, আমাদের গ্রুপের মধ্যে অন্যতম নির্যাতিত শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। আমার গ্রুপে থাকা আমার সকল সহপাঠী এটি স্বীকার করবেন। আমি গেস্টরুমে কোনো কারণে উপস্থিত না থাকলে আমার গ্রুপে থাকা আমার প্রায় সকল প্রায় সকল সিনিয়র আমাকে খুঁজতো। আমি গেস্ট রুমে প্রবেশ করলে সকল সিনিয়র একসাথে আমার ওপর চিল্লিয়ে উঠতো। গেস্টরুমে বেশিরভাগ সময় আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। 

গণরুম-গেস্টরুমের এসব ২০২২ সালের কাহিনি এখনো মনে পড়লে আমার অজান্তে চোখে পানি চলে আসে আমি চাই না আমার সাথে যে পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে। এটি আর কোনো শিক্ষার্থীর ওপর এমনটা করা হোক। আজকের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমি সেই দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরছি যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গণরুমের নামে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে এই কলঙ্কিত অধ্যায় যেন চিরতরে মুছে যায়। (বিঃদ্র: আরও কিছু প্রমাণ গুগল ড্রাইভে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।) আমি এখানে আমার ওপর নির্যাতন করা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করিনি, আমার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে। কেননা তারা অনেকে বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত। যদি ডাকসু উপরোক্ত ঘটনার প্রমাণের জন্য তাদের নাম চায় তাহলে আমি তাদের মিও উল্লেখ করতে প্রস্তুত। যদি ডাকসু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

- জাকির হাসান সাগর মিয়া

শিক্ষার্থী, মাস্টারদা সূর্যসেন হল