চাকরির ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
‘কোটা না মেধা? মেধা, মেধা’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইভা কারচুপির বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ভাইভা কারচুপির বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা গেছে দিল্লিতে, ভাইভা যাবে লন্ডনে’, ‘নব্য কোটার নাম কি, ভাইভা ছাড়া আবার কি’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ২০২৪ এ ছাত্রজনতা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। সেটা অন্য নামে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ছাত্রজনতা সহ্য করবে না, তা রুখে দিবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, বর্তমানে সরকার সকল জায়গায় দলীয়করণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ভাইভাকে মার্কস বৃদ্ধি করেছে। এই পদ্ধতিতে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। এর উদাহরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখতে পেয়েছি। দেখতে পেয়েছি চাকরির লোভ দেখিয়ে এলাকার মানুষদের সন্ত্রাসী করাতে। তাদের এই ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দিব না। যে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে এসেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। তা নাহলে প্রশাসনকে দ্বায় নিয়ে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলগুলোতেও অবৈধভাবে দলীয় লোক উঠিয়ে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে হলে উঠিয়েছে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করার জন্য। এতে প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই জড়িত আছে। তারা আমাদের হল সেক্রেটারির গায়ে হাত তুলেছে। আর কোনোদিন কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস করবেন না, তা নাহলে তাদের হাত আমরা ভেঙে দিব।
তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, হলগুলো থেকে অবৈধভাবে তিন দিনের মধ্যে অবৈধদের বের করতে হবে, তা নাহলে চতুর্থদিনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। ছাত্রশিবির এতদিন মার খেয়েছে, এবার সময় প্রতিহত করার। আল্লাহর ফরজ বিধানকে মানার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নিয়োগ দেওয়া হবে বলে শুনতে পেয়েছি। আমাদের রক্তের বিনিময়ে স্বচ্ছ নিয়োগ বাস্তবায়ন করবো। আমরা কোনো অনিয়ম সহ্য করবো না। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কি হবে তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিবেন। চাকরি পরীক্ষাসহ ইবির সকল অনিয়ম বন্ধ করতে হবে, নয়তো কিভাবে বন্ধ করতে হয় তা আমাদের জানা আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে মনোযোগী হন, আধিপত্য নিয়ে মনোযোগী হবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিদ্যমান বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ ও ১২ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০, ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে ১০ থেকে ২৫ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বরও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে এখনও প্রকাশিত হয়নি।