০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৭

‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি’— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে জিতু

‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি’— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে জিতু  © টিডিসি সম্পাদিত ও সংগৃহীত

‎গত বছরের ২১ ও ২২ আগস্টের, জাকসু নির্বাচনের আগে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল আলম শেখের মধ্যে হওয়া একটি কথোপকথন সামনে এসেছে। ওই কথোপকথনে জিতুকে লিখতে দেখা যায়, ‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি—একটু মাথায় রাখিস। কোনো কারণে হেরে গেলে তোদেরও ঝামেলা হবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে।’

‎‎গতকাল মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ আসাদুলকে আটক করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Channel 14-এর প্রতিনিধি।

‎এছাড়াও আরো দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫১তম আবর্তনের ফরজে হাওলাদার ‎অন্যজন আসাদুল আলমের আত্মীয় পরিচয় জানা যায়নি।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে আসাদুলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হয়। এতে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক এনাম ওরফে ময়লা এনামসহ একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে তারা দাবি করেন।

‎মোবাইল ফোনে পাওয়া কথোপকথনে জিতু আসাদুলকে আরও লেখেন, ‘আসাদ, তুই নির্বাচনটা করলে ঝামেলায় পড়বি। আমাকেই নিয়ে এত কিছু শুরু করছে, তাহলে ভাব তোর কী হবে।’ আরেকটি বার্তায় তিনি বলেন, ‘তুই নাকি নির্বাচন করবি? তোদের কোনো কিছু নিয়ে ভাবনা নেই মেবি। সবাই ফাঁদ পেতে রাখছে তোদের জন্য। নিজের ভালো চাইলে এসব কিছু করা যাবে না... আমি তোর মঙ্গলের জন্য বলতেছি নির্বাচন না করতে।’

‎জবাবে আসাদুল লেখেন, ‘ভাই, আপনার জন্য আমার যা যা করা লাগে করে যাচ্ছি। আপনি ভিপি হবেন ইনশাআল্লাহ ভাই।’

ফাঁস হওয়া চ্যাট


‎‎চ্যাটগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, এসব কথোপকথন গণ-অভ্যুত্থানের পরও জিতুর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

‎এ বিষয়ে ‎জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, আটক শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখের মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মী এবং জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে জিতুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আসাদুলের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর মুঠোফোনে অন্তত পাঁচবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‎উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।