০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৩

পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অংশগ্রহণ, গ্রেপ্তারের দাবি রাবি ছাত্রদলের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের অবস্থান।   © সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজুল আবেদিন অনার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সমাজকর্ম বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ১ম সেমিস্টার পরিক্ষায় উক্ত ছাত্রলীগের নেতা অংশ নিয়েছে বলে জানা যায়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে অবস্থা নেন।

মিনহাজুল আবেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি তৎকালীন বিজয় ২৪ হলের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি অনার্স ৪র্থ বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ১টি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে জানা গেছে। তবে ১ম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ২য় পরীক্ষা দিতে আসেনি বলে জানিয়েছে বিভাগের শিক্ষকেরা। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, জুলাইয়ে হামলার অভিযোগে তাকে দুই বছরের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার পরীক্ষায় অংশ নিতে বাঁধা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাখা ছাত্রদলের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব বলেন, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অংশ নিয়ে সে সশস্ত্র হামলা করেছিল। এরপরেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার না করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা আন্দোলনকারীদের সাথে প্রতারণা। এর মাধ্যমে তারা ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে কাজ করছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, আমরা হাতে আইন নিতে পারি না। আমরা তাকে পুলিশকে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করব। আমার জানা মতে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে একজন আসামিকেও এরেস্ট করেনি। ছাত্রদলের কাজ তো পুলিশকে হেল্প করা না। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের গাফিলতি আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেরও গাফিলতি আছে। আমরা চাই যারা অভিযুক্ত এবং অপরাধী তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে।

ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল বলেন, তিনি এজাহার ভুক্ত আসামি এবং জুলাই আন্দোলনে
ছাত্রদের উপর প্রকাশ্যে গুলি এবং হামলা করেছিল। সে আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগে পরীক্ষা দিচ্ছে। এতে আমরা হতবাক হয়েছি এবং আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি তাকে যেন অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়। 

তিনি আরও বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী আমরা চায় না এদের কারণে ক্যাম্পাসে আবার অশান্তি সৃষ্টি হোক। এদের মতো আরও যারা আছে তাদেরও যেন আইনের আওতায় আনা হয়। এছাড়াও আমরা খবর পেয়েছি সমাজকর্ম বিভাগের কিছু ফ্যাসিস্ট শিক্ষক এদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, জুলাইয়ে হামলার আসামি হওয়ায় তাকে দুই বছরের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডিপার্টমেন্ট থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন থেকে তার পরীক্ষায় বসতে কোনো বাঁধা নেই বলে জানানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও একই কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, তার পরীক্ষায় অংশ নিতে বাঁধা নেই তবে অন্য কোনো মামলা থাকলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।