০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫০

৮৯ শিক্ষার্থীর বিভাগ উন্নয়ন ফি বাবদ আড়াই লাখ টাকা দিলেন রাকসুর আম্মার

৮৯ শিক্ষার্থীর বিভাগ উন্নয়ন ফি বাবদ আড়াই লাখ টাকা দিলেন রাকসুর আম্মার  © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৪৮ বিভাগের প্রথম বর্ষের ৮৯ শিক্ষার্থীর বিভাগ উন্নয়ন ফি বাবদ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা সহায়তা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। আর্থিক সংকটে থাকা এসব শিক্ষার্থীর আবেদনের পর তাদের যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারও ফি-র অর্ধেক এবং কারও পুরো ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ উন্নয়ন ফি পরিশোধের জন্য রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সহায়তার লক্ষ্যে গত ৯ আগস্ট গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভাগ উন্নয়ন ফি-এর মোট পরিমাণ এবং তারা নিজেরা কত টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তা উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আবেদনকারীদের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী জানান, ফেসবুক পোস্ট দেখে আমি আবেদন করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণপত্র ও বিভাগ উন্নয়ন ফি-র নোটিশ নিয়ে ভাইবাতে অংশগ্রহণ করি। এরপর গতকাল আম্মার ভাই আমাকে বিভাগ উন্নয়ন ফি-এর টাকাটা দেন। এটা আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে। আমাদের মতো যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের জন্য এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক।

উপকৃত হওয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাবা একজন দিনমজুর। আমার পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো না। পরিবার থেকে কোনোভাবে আমার মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচটা পাঠায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর হুট করে আমার পক্ষে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না। এরপর আমরা কয়েকজন মিলে বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারের কাছে ফি পরিশোধের তারিখ বাড়ানোর জন্য বলি। ফি পরিশোধের বিষয়টি আম্মার ভাইকে জানাই।

তিনি আরও বলেন, এরপর ভাইবাসহ বিভিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের পর রাকসু জিএস আমার বিভাগ উন্নয়ন ফি-র ব্যবস্থা করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা এক নয়। নিঃসন্দেহে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আম্মার ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে আমরা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভাগ উন্নয়ন ফি দেওয়ার আবেদন পাচ্ছিলাম। এজন্য বিভিন্ন ভাইয়ের কাছে একেকজনের জন্য আবেদন না করে সম্মিলিতভাবে কিছু করা যায় কি না, সেটা ভাবছিলাম। এরপর ৯ আগস্ট আমি একটি অ্যানাউন্সমেন্ট দিই। সেখানে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়। এতে ৪৮টি বিভাগের ৮৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো বিভাগের সভাপতি, জেলা সমিতি ও ব্যাচের সিআর থেকে তথ্য নিয়ে যাচাই করা হয়েছে। এছাড়াও, সবশেষে তাদের ভাইভা নেওয়া হয়েছে।

অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, এই কার্যক্রমে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মাধ্যমে ৮৯ জন শিক্ষার্থী ফি পরিশোধ করে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে এটাই আমাদের বড় সার্থকতা। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ভেদে কাউকে পুরো অর্থ, কাউকে অর্ধেক, আবার কাউকে এক বা দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

​টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কাজের জন্য নভোকালচারের চেয়ারম্যান রফিক হান্নান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং অবশিষ্ট টাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বড় ভাই অনুদান হিসেবে দিয়েছেন।