সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফটকে চাকসুর তালা, চক্রাকার বাস চালুর দাবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অভ্যন্তরীণ সড়কে গ্যাস সংকটের অজুহাতে অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি ও রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতৃবৃন্দসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে চলাচলের যানবাহন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নাম্বার গেটে চলাচলরত সড়কে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাস চলাচল আটকে দেওয়া হয়, ফলে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকতে বা বের হতে পারছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল থেকেই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্টগামী সিএনজি চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলেও চালকেরা তা মানেনি। পরবর্তীতে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই সন্ধ্যা থেকে সিএনজি চালকরা একযোগে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেয়।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর গেট পর্যন্ত যাতায়াতে অটোরিকশা ও সিএনজি ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চালকেরা প্রায়ই ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে সিন্ডিকেট করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চালকদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, তারা ইচ্ছেমতো ৭ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে তা ১০ টাকা করে নেন। এসব অনিয়ম ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে আমরা আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি এবং বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়েছি। আমাদের দাবি, এসব বন্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি চক্রাকার বাস সার্ভিস দ্রুত চালু করতে হবে।
মুঠোফোনে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, চবির এই সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো প্রাইভেট কোম্পানি পরিচালনা করে, এগুলোর দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না। তবু আমরা আন্দোলনকারীদের বলেছি আগামীকাল তাদের সাথে আলোচনা করব। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে একটি বাসও পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা সেই বাসের চাবি নিয়ে নিয়েছে।