ডাকসুর উদ্যোগে ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীর হারানো-ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রচেষ্টার মাধ্যমে বছর খানেক আগে হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোনটি ফিরে পেয়েছেন আশরাফুল ইসলাম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় পর হারানো ফোনটি ফিরে পেয়ে ডাকসুর প্রতি বিশেষ করে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।
শুধু আশরাফুল ইসলাম নয়, ডাকসুর উদ্যোগে গত একবছরে ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীর ছিনতাই ও হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুসাদ্দিক। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছেন, এসব মুঠোফোনের মধ্যে ৪-৫টি পুলিশের কাছ থেকে পেয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছি। বাকিগুলো পুলিশ উদ্ধার করে ভিকটিম শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরকম ঘটনা ডজনেরও বেশি হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে ডাকসু সমন্বয় করেছে। সেখানে আমরা যোগাযোগ করেছি শিক্ষার্থী ও পুলিশের সঙ্গে।
জানা যায়, বছর খানেক আগে ২০২৪-২৫ সেশনের আশরাফুল ইসলাম নামে ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি হারিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে সেটি ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি। বিষয়টি ডাকসুকে জানালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং অব্যাহত যোগাযোগ রাখেন। পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মুঠোফোনটি শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ডাকসু নেতা মুসাদ্দিকের প্রচেষ্টা, দেড় বছর আগের হারানো ফোন ফিরে পেলেন ঢাবি ছাত্রী
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এজিএস মহিউদ্দীন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এরই মধ্যে ডজনখানেক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধারে সহায়তা করেছি। হারানোর দীর্ঘদিন পর হলেও আজ আরও একজন শিক্ষার্থীর ফোন তার হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ডাকসু ভবিষ্যতেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।
এজিএস মহিউদ্দীন খান বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন তার প্রয়োজনীয় মুঠোফোন হারিয়ে ফেলেন, তখন সেটি শুধু একটি ডিভাইস হারানোর বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগও জড়িত থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের হারানো ফোন উদ্ধারে ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুলিশের সাথে কমিউনিকেশন করে এই ফোনটা উদ্ধারের জন্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা। প্রায় অর্ধ বছর পর একজন শিক্ষার্থী তার হারানো ফোন ফিরে পেয়েছেন; এটি আমাদের জন্যও সন্তোষের বিষয়। শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ডাকসু প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।
এদিকে, গত জুলাই মাসে সিনথিয়া আক্তার সান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মুঠোফোনও হারিয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার হলে তার হাতে তুলে দেন ডাকসু নেতার। একইভাবে ২০১৯-২০ সেশনের শাহরিয়ার ইসলাম নামে এক এক শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মুঠোফোনও হারিয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার হলে ওই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।