০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭

‎জাবি ভিসিকে ‘সাদা দলের’ সভাপতি বলায় প্রতিবাদ, তথ্য যাচাই হয়নি: জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লোগো  © ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে ‘সাদা দলের’ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাবি শাখা। সংগঠনটির দাবি, উপাচার্যের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে যথাযথ তথ্য যাচাই না করেই তাঁকে ভিন্ন একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

‎রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

‎সম্প্রতি একটি টকশোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের প্রসঙ্গ ওঠে।

‎আলোচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের ভিসিও কিন্তু বিএনপি দলীয়, তাকে অযোগ্যও বলবেন না, কিছুও বলবেন না।’

‎জাবির উপাচার্যকে নিয়ে সমালোচনামূলক লেখালেখি করলে একটি পক্ষ সমালোচকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি তুলে ধরে এটিকে ‘গুপ্ততার প্রমাণ’ বলেও মন্তব্য করেন ড. মল্লিক।

‎অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাশায়েখ শশী জানতে চান, ‘মানে কেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ব্যতিক্রম?’ জবাবে ড. মারুফ মল্লিক বলেন, ‘গড নোজ! আল্লাহই জানে।’

‎আলোচনার একপর্যায়ে সহ-আলোচক অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ জাবির উপাচার্যকে ‘সাদা দলের’ সভাপতি ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ড. মারুফ মল্লিক বলেন, ‘না না না, কখনোই ছিলেন না উনি।’

‎যা বলছে শিক্ষক ফোরাম
‎টকশোর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জানায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ নামে কোনো শিক্ষক সংগঠন নেই। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম (এনটিএফ) রয়েছে।

‎সংগঠনটির দাবি, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীল নেতা। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফোরামের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

‎বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে মনোনীত হয়ে অধ্যাপক কামরুল আহসান ২০০৫ ও ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

‎অধ্যাপক কামরুল আহসানের দীর্ঘ সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে যাচাই না করে তাঁকে অন্য একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে ফোরামটি।

‎এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও টকশোতে আলোচনার সময় ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল আলোচনা করার প্রত্যাশা জানিয়েছে সংগঠনটি।