নির্বাচিত সদস্যকে বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হলো সিন্ডিকেট সভা, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাদা দলের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ধর্মীয় আদর্শ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত’ শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠানের আগেই বিকেল ৩টায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিমের নেতৃত্বে সাদা দলের সিনিয়র সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই প্রতিবাদ জানান।
ওই সময় সিন্ডিকেট সভা বন্ধের দাবিও জানান সাদা দলের সদস্যরা। তবে পরে প্রফেসর শামীম উদ্দিন খানকে বাদ দিয়েই বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে সাদা দলের সদস্যরা উপাচার্যকে একটি চিঠি প্রদান করেন। দলের অন্তর্বর্তীকালীন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শাহাদাত হোছাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আজ আপনার আহ্বানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, সিন্ডিকেটে প্রফেসর ক্যাটাগরির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আপনার এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, আমরা চাই আপনার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হোক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোতে নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রতিফলন ঘটছে—যার একটি স্পষ্ট প্রমাণ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সিন্ডিকেট সভায় আমন্ত্রণ না জানানো।
জানা গেছে, অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের সিন্ডিকেট সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের আইনি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টকে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বিষয়টি উল্লেখ করে সাদা দলের চিঠিতে বলা হয়, এ অবস্থায় বিতর্কের আইনি নিষ্পত্তির পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা অথবা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করেই সভাটি সম্পন্ন করা যুক্তিযুক্ত ছিল। তা না করে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা এবং সভায় একজন সম্মানিত সদস্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমন্ত্রণ না জানানো মোটেও সংগত হয়নি। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সিন্ডিকেটের যে সংবিধিবদ্ধতা ও পরিপূর্ণতার বিষয় রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। শুধু অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের প্রয়োগের ব্যত্যয় বলে আমরা মনে করি।
এতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ (সাদা দল) আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছে, আজকের সভা স্থগিত করুন অথবা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সিন্ডিকেট সভা সম্পন্ন করুন। এ দুটির কোনটিই যদি না করেন, তাতে প্রতীয়মান হবে প্রশাসন পরিচালনায় আপনি দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এমন দলীয় চিন্তা-চেতনা লালন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষকগণ আপনার পাশে থাকবে না এবং ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে-যার পুরো দায় আপনাকে বহন করতে হবে।
শিক্ষকগণের এ দাবি উপেক্ষা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ন্যায়-নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইন বলেন, আজকে সাদা দলের প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট সভার সভাপতির নিকট আবেদন নিয়ে যান যেন অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে সিন্ডিকেট সভায় অন্তর্ভুক্ত করেন অথবা আদালতের রিটের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সভা স্থগিত রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়নি। দেশে এখন গনতান্ত্রিক সরকার আসছে, এখনো যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় আধিপত্য চলমান থাকে তাহলে এটার ভবিষ্যত ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সিন্ডিকেট সভার অনেকগুলো পদ খালি , আমরা দাবি জানিয়েছি দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গনতান্ত্রিক ধারা ফিরানোর জন্য।