রাবির নতুন রেজিস্ট্রারের নেই অনার্স ডিগ্রি, নীতিমালা লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাকাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তবে তাঁর নেই কোনো অনার্স ডিগ্রি। নীতিমালা লঙ্ঘন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, নীতিমালা মেনেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও তাঁর নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান।
তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, কোনো অনার্স ডিগ্রি নেই, মাদ্রাসায় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকুরির অভিজ্ঞতা আছে; যদিও মাদ্রাসায় চাকুরির অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উল্লেখ্য, একইসাথে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকুরির আবেদনের শর্ত শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও উনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিথিল ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম আজ (৩০ আগস্ট) রাবিতে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুনলাম এই বিষয়ে জোর রাজনৈতিক সুপারিশ আছে। এর আগে কোনো ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিয়োগ দেবার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।
একই সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি বলেন, আমি থাকাকালীন ওনার যে ফাইল দেখে আসছি তাতে উনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। আমি প্রকাশ্যেই বলতে পারব, এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনেক পিছিয়ে যাবে। ওনার প্রোফাইল অনুযায়ী উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, আমার ক্লাস-পরীক্ষা থাকার কারণে এ জায়গাটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। আমি মনে-প্রাণে চেয়েছি একজন যোগ্য লোক এ জায়গায় আসুক। কিন্তু এরকম একজন অথর্ব মানুষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছরের বেশি কর্মরতদের মধ্য থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বিধায় প্রয়োজনে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বিবেচনা করা যেত অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি উন্মুক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া যেত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে তা মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাকে এখানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্নাতক ডিগ্রির বিষয়ে প্রশ্ন করলে এই প্রতিবেদককে একটি লিখিত চিঠি দেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, এ এইচ এম আসলাম হোসেন দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বৎসর যাবৎ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রথমে শাখা কর্মকর্তা পরবর্তীতে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (অ্যাকাডেমিক) পদে সরাসরি যোগদান করেন।
এতে আরও লেখা আছে, তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান শাখা থেকে (১ম বিভাগে) এসএসসি পাশ করেন এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ হতে বিজ্ঞান শাখা থেকে (২য় বিভাগে) এইচএসসি পাশ করেন। এর পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯২ সালে ইতিহাস বিভাগ হতে ২য় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তবে নিয়োগে নীতিমালার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেওয়া হয়েছে। নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, তখন সেটা সেই যোগ্যতা অনুযায়ী দেওয়া হবে। তবে এ নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।