২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৮

‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন’‎

সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান  © টিডিসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদজগৎ ও প্রকৃতির সমগ্র জীবন্ত অংশের স্বার্থ সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

‎শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাবির সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সেমিনার ও গেওসায়েন্স ফর সুস্টাইনাবলে ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

জাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ জিওলজিক্যাল সোসাইটি (বিজিএস) ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (জেইউজিএসএএ) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

‎সেমিনারে দেশের খ্যাতিমান ভূবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা ভূ-আকৃতি (ল্যান্ডফর্ম), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ (জিওহ্যাজার্ড), পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। চারজন মূল বক্তা টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ভূ-আকৃতি বিষয়ে তাদের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

‎মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন খান ‘ভূ-আকৃতিগত পর্যবেক্ষণ: পূর্ববর্তী গবেষণা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সমন্বিত পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. শাখাওয়াত হোসেন ‘বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত চরম ঘটনা, ভূ-দুর্যোগ এবং টেকসই উন্নয়ন’ এবং অধ্যাপক ড. খায়রুল বাশার ‘বাংলাদেশে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য পানিসংকটাপন্ন এলাকা (ওয়াটার স্ট্রেসড এরিয়া) নির্ধারণ’ বিষয়ে গবেষণা উপস্থাপন করেন। 

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন ‘ভবিষ্যতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল গবেষণা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

‎এ সময় ভূ-আকৃতি, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ ও জলবায়ু—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে জ্বালানি ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ ব্যবধান দূর করে গবেষণাকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

‎উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, ভূতাত্ত্বিকদের গবেষণার সঙ্গে নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিদদের কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা প্রয়োজন। গ্যাস সংকট, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের গবেষণা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‎সভাপতির বক্তব্যে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পরিকল্পনায় ভূতাত্ত্বিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নীতিনির্ধারণ হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক। পাশাপাশি, স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই শিক্ষাক্রমে ভূতত্ত্ব ও পৃথিবীবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রজন্মকে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও দুর্যোগ সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

‎সেমিনারের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. এ টি এম শাখাওয়াত হোসেন এবং সদস্য সচিব ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মো. সায়েম। আয়োজকরা জানান, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য উন্মুক্ত এ সেমিনার ভূবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।