২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫১

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের  © সংগৃহীত

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি এবং জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

‎সংগঠনটির দাবি, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

‎বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

‎সংগঠনটির দাবি, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকার ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার কেবল উপাচার্যের।

‎এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’ সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা, অযোগ্যতা এবং জবাবদিহির অভাবের বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায়ের দায়িত্ব প্রশাসনের; অভিযোগকারীর নয়।

‎এছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষরও করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে বিষয়টি সংশোধন করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এ ঘটনা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়ম-নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি চরম অবহেলার ইঙ্গিত দেয় এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‎বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখন নিয়মের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যেখানে নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পায়, সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

‎সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো— ১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

‎সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি অব্যাহত থাকবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।