ঢাবির ফজলুল হক হলের ভিপি, সমাজসেবা সম্পাদক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শোকজ
ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার ঘটনায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, সমাজসেবা সম্পাদক তারিকুল ইসলাম এবং ঘটনার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে শোকজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল প্রামাণিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈমকে আগামী এক কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেওয়া হয়েছে।
শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রভোস্ট কক্ষে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় গত ২০ আগস্ট হল অফিসের মাধ্যমে জানা যায়, প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক রীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন বা নির্দেশনা ছাড়া কোনো প্রশাসনিক ভবন, অফিস বা কক্ষ তালাবদ্ধ, অবরুদ্ধ কিংবা সিলগালা করার এখতিয়ার কোনো ব্যক্তির নেই। চিঠিতে এ ধরনের কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধানের পরিপন্থী এবং প্রশাসনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভিপি আবু নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন কর্তৃত্ব, এখতিয়ার বা অনুমোদনের ভিত্তিতে তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করেছেন। একই সঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে শোকজের বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে ডাকসুর হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম দাবি করেন, প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি এবং তার কক্ষ তালাবদ্ধ করার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমসহ তাকেও ও হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক তারিকুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যেই নির্যাতনকারী প্রভোস্ট দেড় ঘণ্টা ধরে আমার ভাইয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে, সেই প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করায়, তার রুম তালাবদ্ধ করায় ভিক্টিম মো. ইব্রাহীমসহ আমাকে ও আমাদের সমাজসেবা সম্পাদক তারিকুল ইসলামকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আবু নাঈম আরও দাবি করেন, স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন অমানুষ শিক্ষকের বিচার করতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুখ বন্ধ করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, যদি আপনারা মনে করে থাকেন যে বল প্রয়োগ করে, চাপ প্রয়োগ করে আমাকে আমার ভাইয়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা থেকে বিরত রাখবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমি আবু নাঈম, ভিপি হিসেবে আমার ভাইয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে থামব না।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম। অভিযোগের পর প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা হলের প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ করেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যেই প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শোকজের উদ্যোগ নেওয়া হলো।