২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৫

‎শিল্পকলা একাডেমিতে কাকতাড়ুয়ার ‘পুতুলনাট্য উৎসব’ আগামী  ২৭ আগস্ট

সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী ‘পুতুলনাট্য উৎসব ২০২৬’ আয়োজনের ঘোষণা  © টিডিসি ছবি

‎পুতুলনাট্য বা পাপেট্রি চর্চায় ছয় বছর পূর্ণ করে সপ্তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘পুতুলনাট্য উৎসব ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। দেশের বরেণ্য পুতুলনাট্যশিল্পী ড. মোস্তফা মনোয়ারকে উৎসর্গ করে আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

‎রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শিল্পী।

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবের প্রথম দিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের পর্দা উঠবে। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট পাপেটশিল্পী অধ্যাপক রশীদ হারুন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইনভেন্টর'স পাপেট পরিবেশন করবে ‘ইন্টারেক্টিভ পাপেট’ এবং কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘বনভ্রমণ’।

‎উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) তিনটি অধিবেশনে মোট ছয়টি পুতুলনাটক মঞ্চস্থ হবে। সকাল ১১টায় যুগ পাপেট থিয়েটারের ‘ইন্টারেক্টিভ পাপেট’ ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘লিচু চোর’ মঞ্চস্থ হবে। বিকেল ৫টায় জলপুতুল পাপেটসের ‘চিকেন খাই না’ ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘নোলক’ পরিবেশিত হবে। সন্ধ্যা ৭টায় ইউনিভার্সেল পাপেটের ‘সবুজ দেশের বিপদ’ এবং কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘বীরপুরুষ’ মঞ্চস্থ হবে।

‎আয়োজকরা জানান, সপ্তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের তিনটি নতুন প্রযোজনা ‘লিচু চোর’, ‘নোলক’ ও ‘বীরপুরুষ’ নির্মাণ করা হয়েছে। নাটক তিনটি যথাক্রমে রাসেল ইসলাম, শরণ এহসান ও শোভন চক্রবর্তীর রচনায় নির্মিত। একই নামের তিনটি বিখ্যাত বাংলা কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এসব পুতুলনাটক তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শরণ এহসানের রচনায় ‘বনভ্রমণ’ পুতুলনাটকটি এর আগে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর শিশুপ্রহরে মঞ্চস্থ হয়েছিল।

‎সংবাদ সম্মেলনে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘পাপেটের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা গল্পের মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও সৃজনশীলতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা চাই আনন্দের মাধ্যমে শেখা বিষয়গুলো শিশুদের মনে দীর্ঘদিন ধরে থাকুক। পুতুলনাটক শুধু শিশুদের নয়, সব বয়সী মানুষের জন্যও একটি সুস্থ ও নির্মল বিনোদনের মাধ্যম। ভবিষ্যতে এই শিল্পকে শিশু শিক্ষার কার্যকর উপকরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই।’

‎কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুসরাত জাহান শিল্পী বলেন, ‘২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ছোট পরিসরে শুরু হলেও পুতুলনাট্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। বর্তমানে শিশুদের আনন্দদায়ক শিক্ষা, জনসচেতনতা, পাপেট থেরাপি এবং ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছি। সপ্তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পুতুলনাট্যকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চাই।’

‎প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার বর্তমানে শিশুদের আনন্দদায়ক শিক্ষা, জনসচেতনতা, বয়স্ক শিক্ষা, ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের জন্য পাপেট থেরাপি, অটিজমে পাপেট থেরাপি, প্যালিয়েটিভ কেয়ারে পাপেট থেরাপি, স্কুল পাপেট থিয়েটার এবং ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য নিয়ে কাজ করছে। এবারের ‘পুতুলনাট্য উৎসব ২০২৬’ দেশের বরেণ্য পুতুলনাট্যশিল্পী ড. মোস্তফা মনোয়ারকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুন্তাসির বিল্লাহ খান অর্পণ, ৫৩তম ব্যাচের ঐশ্বর্য বাগচী ও মারুফ হোসেন এবং ৫২তম ব্যাচের তৌহিদ মোস্তাক নীল ও মারিয়া আক্তার রায়শা উপস্থিত ছিলেন।