১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৬

‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’— প্রভোস্টের পদত্যাগ চেয়ে ডাকসুর মানববন্ধন

ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটের সামনে মানববন্ধন করেন ডাকসু নেতারা  © টিডিসি

ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ‘১, ২, ৩, ৪—নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’ এবং ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়।

মানববন্ধনে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, আইন সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ ডাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। 

মানববন্ধনে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলেও প্রশাসন দীর্ঘ সময় ধরে কালক্ষেপণ করেছে।

তিনি বলেন, “রাত পার হয়ে গেলেও তারা ফুটেজ দেখানোর সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ভাই ইব্রাহীমকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে—তার প্রতিটি কথাই সঠিক।”

অভিযুক্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের সময়ের গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনকে পদচ্যুত করে বিচার নিশ্চিত করা না হবে এবং তাকে সহায়তাকারী স্টাফদের বিচারের মুখোমুখি করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডাকসু ও হলের শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে না।”

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার পর হল প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল টিম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব বা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে আন্দোলনের সময় প্রক্টররা শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন। এরপর প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, ওই ঘটনায় হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জিএস ইমামুল হাসান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট হলের সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম।

অভিযোগের পর প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের কক্ষ তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।