চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে খসে পড়ল পলেস্তারা, আতংকে শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এ. এফ রহমান হলের ৩২৮ নম্বর কক্ষের সামনের সিঁড়ির ওপরের অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন হলটির আবাসন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. মাইন উদ্দিন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে উক্ত ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হলটির শিক্ষার্থীরা।
হলটির আবাসন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, আজ এ. এফ. রহমান হলে পলেস্তরা খসে পড়ার বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এমন ঘটনা খুব বেশি অস্বাভাবিক না হলেও, এতে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে এর আগেও আমরা সংসদের পক্ষ থেকে হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পলেস্তরা খসে পড়ার স্থানসহ হলের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হলের সার্বিক অবকাঠামোগত সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছি।
চবির এ. এফ রহমান হল ছাত্রসংসদের ভিপি শাহরিয়ার আহমেদ সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়াররা নিয়মিতই হল পর্যবেক্ষণ করে। ছাদ খসে যাওয়া, ছাদ থেকে পানিপড়া, সিঁড়ির সমস্যাসহ হলের অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত। কিন্তু এসব ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট আমাদের হল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয় না। আজকের ছাদ খসে যাওয়া যদি কোন স্টুডেন্টের ওপর পড়তো, তাহলে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারতো।
তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর হয়ে গেছে এ. এফ রহমান হলের। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো হলগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হলগুলো যে অনুপাতে বাজেট পায়, আমাদেরও সে অনুপাতেই দেয়। তাই কোনো এক্সিডেন্ট হওয়ার আগেই আপনার (প্রতিবেদক) মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই পুরাতন হলগুলোর দিকে নজর দেয়ার জন্য।
এ বিষয়ে চবির এ. এফ. রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হল সংসদ ও চাকসুর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় হলের বিষয় নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না।