‘তথ্য-প্রমাণ থাকলে হাজির করুন’— ছাত্রদল নেতা মুসা হত্যা নিয়ে চবি শিবিরের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’
১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রদল নেতা নুরুল হুদা মূসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রমাণ দিতে চবি ছাত্রদলকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানিয়েছে চবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, ৩২ বছর আগের ওই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের ওপর মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে ক্যাম্পাসে অপরাজনীতি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ যৌথ এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও চ্যালেঞ্জ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি চবি ছাত্রদল ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে একটি ব্যানার টানিয়ে ছাত্রদল নেতা নুরুল হুদা মুসা হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না।
সংগঠনটির দাবি, তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বাইরে শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হুদা মুসার সঙ্গে আরেক নেতা টিটু ও তার অনুসারীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৈরিতা তৈরি হয়। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় মুসা মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ছাত্রদলের তৎকালীন শাখা সভাপতি ইফতেখার হোসেন মহসিন বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সকল আসামিকে খালাস দেন।
মামলার নথিপত্র, এজাহার, মেডিকেল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের বিবরণের বরাতে শিবির নেতারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে হাত-পায়ের রগ কাটার যে প্রচার চবি ছাত্রদল চালিয়ে আসছে, তার কোনো সত্যতা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩২ বছর পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। চবি ছাত্রদলকে তাদের দাবির পক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে আনার ওপেন চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। অন্যথায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।