শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ’র হাতে রাখার দাবিতে বেরোবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি জিরো পয়েন্ট, প্রশাসনিক ভবনে দক্ষিণ গেট ও বিজয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে মূল ফটকে এসে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’,‘শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি চলবে না চলবে না’, ‘কমিটির বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন ’, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিদে, নাইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘যোগ্যতা নিয়ে গড়িমসি চলবে না চলবে না’, ‘মেধা নিয়ে গড়িমসি চলবে না চলবে না’, ‘চাকরি আমার অধিকার নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার’, ‘কোটা গেছে যে পথে কমিটি যাবে সেই পথে’ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘জুলাই -আগস্টের কোটা বিরোধী আন্দোলনে মেধাবীদের বিজয় হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে তারেক রহমানের সরকার এনটিআরসি মাধ্যম শুধু সনদ দিবে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ দিবে। বিশ্বিবদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে এলাকায় গিয়ে পঞ্চম শ্রেনি অষ্টম শ্রেণি পাস ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে গিয়ে চাকরির জন্য ধরনা দিবে, শিক্ষার্থীরা এই প্রহসন আর মেনে নেবে না। সরকারকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলতে চাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না, আগুনে হাত দিলে আপনি টিকতে পারবেন না। মেধারভিত্তিতে এনটিআরসির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘আমরা দেখেছি অনার্স-মাস্টার্স পাস মেধাবী শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য ম্যানেজিং কমিটির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। সেই ব্যবস্থা বর্তমান সরকার আবার ফিরিয়ে আনতে চায়, আমরা এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। আমরা আগের সেই অবস্থা আর দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে এই ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক এবং ২০১৫ সালের পরিপত্র পুনরায় বহাল রাখা হোক। যেখানে এনটিআরসি পরীক্ষা নেবে সনদ ও চাকরির সুপারিস করবে সেটিকে বহল রাখা হোক। নাহলে শিক্ষার্থীরা পুনঃরায় মাঠে নামতে বাধ্য হবে।’
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এনটিআরসির মতো একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে হঠকারিতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসি একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে। সেখানে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে অস্বচ্ছতা বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করবে। এনটিআরসির মতো একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া কার স্বার্থে, কাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে। আমরা চাই, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা না হোক।’