জাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়নি ছাত্রসংগঠন ও জুলাই যোদ্ধারা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ’২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন, জুলাই আন্দোলনের অ্যাকটিভিস্ট, আহত শিক্ষার্থী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটি বলছে, কর্মসূচির সময়সূচি বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় সবার কাছে লিখিত আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল চারটায় জাবিতে জুলাই ’২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা শিক্ষার্থী ও অ্যাকটিভিস্ট কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কাদের জন্য এই আয়োজন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ট্রেজারার স্যার গুরুত্ব না দেওয়ায় এ রকম অব্যবস্থাপনা। উনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিটির কার্যক্রম নিয়ে একবারের জন্য বসার প্রয়োজন মনে করেননি।’
শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী, সাভার আশুলিয়ার শহীদ পরিবার এবং আহত শিক্ষার্থীদের এবং বিভিন্ন অ্যাকটিভিস্টদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ আর কিছুক্ষণের মধ্যে প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হবে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর আজকে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাঁড়িয়ে রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান না হলে আজকে হয়তো বা তারা তাদের জায়গায় বসতে পারত না। কিন্তু এটা তাদের কাছ থেকে কোনোভাবেও কাম্য ছিল না।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো দাওয়াতপত্র পাইনি। অথচ কিছুক্ষণের মধ্যে প্রোগ্রামটি শুরু হবে। এটা একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা এবং অন্যদিকে জুলাইকে প্রাসঙ্গিক রাখার অভাব। প্রশাসন জুলাই আন্দোলনের বিচারিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালন না করা, জুলাইকে ধারণ না করা এবং আহত ও শহীদদের পর্যাপ্ত মর্যাদা না দেওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে আজকের প্রোগ্রামে।’
এ বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের প্রশ্ন করলে জুলাই উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান মিলন বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সিডিউল বারবার চেঞ্জ হওয়ার কারণে লিখিত দাওয়াতপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার জন্য আন্তরিকভাবে দঃখ প্রকাশ করছি।’
এ বিষয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা বলেন, ‘জুলাই-২৪ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচিগুলোর কয়েকটি আমাদের আগের ট্রেজারারের সময় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। এই কর্মসূচির দাওয়াতপত্র বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন কমিটির সদস্যসচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. আখতারুজ্জামান। সম্ভবত কোনো ভুল বোঝাবুঝির কারণে সবার কাছে লিখিত দাওয়াতপত্র পৌঁছায়নি। তবে তিনি অনেককে ফোনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাদের একটি তালিকাও তিনি আমাকে দিয়েছেন।’