০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৬

আওয়ামী লীগ ফেরাতে ‘চেষ্টারত শিক্ষকদের’ হুঁশিয়ারি দিল ঢাবি প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও জানানো হয়।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক আওয়ামী লীগকে পুনরায় সক্রিয় করার লক্ষ্যে অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নতুন পরিচয়ে ফিরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা, ব্যানারে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’

এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী বা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩, প্রথম স্ট্যাটিউটস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশনের সংশ্লিষ্ট বিধান উল্লেখ করে প্রশাসন জানায়, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানানো হয়।