ঢাবির তিন শিক্ষক বরখাস্তে যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন নীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (পলিসিগভ ইউকে)। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ অবশ্যই আইনি, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। একই সঙ্গে একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
লন্ডন থেকে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পলিসিগভ ইউকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং গণতান্ত্রিক সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করে।
সংস্থাটি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আইনি, স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাদের অবশ্যই অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি তাদের পেশাগত জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।
পলিসিগভ ইউকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের সুযোগ, বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্য ও বৈধ পাণ্ডিত্যপূর্ণ কার্যক্রমের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, হুমকি বা সামাজিক চাপ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহি একসঙ্গে বজায় রাখতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে পৃথক অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে আরও চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।