০১ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৪

এবার হল সংসদ এজিএসের রুমে সমকামিতার অভিযোগ, অভিযুক্ত দুই বহিরাগত

হল সংসদের এজিএসের রুমে সমকামিতার অভিযোগ, অভিযুক্ত মাদ্রাসা ছাত্রসহ দুই বহিরাগত  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগে এক বহিরাগতকে আটকের পর এবার ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগতকে আটকের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিলের রুমে ঘটেছে। তিনি শিবিরপন্থী হল সংসদের নেতা বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২৭ জুলাই রাতে হলের ওই কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে এ ঘটনার ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না বলে বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি। অভিযুক্ত একজন মাদ্রাসা ছাত্র, অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: সমকামিতার অভিযোগে ঢাবি শিক্ষার্থীসহ আটক ২

এ বিষয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. তাওকির হাসান বলেন, ওই দুজন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন বলে এজিএস  আমাদের জানিয়েছেন। তাদের রুমে রেখে তিনি ক্লাসে গিয়েছিলেন। পরে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

ঘটনাটির ভিডিও ধারণকারী বলে পরিচয় পাওয়া রুমেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না।

অভিযোগের বিষয়ে এজিএস ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমার মায়ের মামাতো ভাই নোয়াখালী মাদানিয়া মাদ্রাসায় পড়ে। ২৬ তারিখে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি কিছু সময় বিশ্রামের জন্য আমার কক্ষ ব্যবহারের অনুরোধ করেন। তার সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। ঘটনার সময় আমি হলে ছিলাম না; ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া গিয়েছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে আগে কিছু জানতাম না। পরে ভিডিওর বিষয়টি জানতে পারি। যদি আগে জানতাম, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। এখন বিষয়টি জেনেছি, তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য জমিদার নাঈম বলেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাজেদুর রহমান নামে হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এদিকে, অয়ন চৌধুরী নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ঘটনার তিনটি ভিডিও ফেসুবকে দিয়ে লেখেন, ‘‘গত ২৭ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল সংসদের সম্মানিত এজিএস ইব্রাহিম খলিল শিকদারের দুজন মাদ্রাসায় পড়ুয়া গেস্টকে তার নিজকক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাদের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তিও নেয়া হয়। ঢাবির হল সংসদের একজন এজিএস হয়েও তার নিজকক্ষে এহেন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ সমকামিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং হলের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। বি.দ্র: খুবই সেনসিটিভ কিছু ভিডিও আছে যেগুলো প্রকাশ করার যোগ্য নয় এবং প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।’’