ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত: চেয়ারম্যান ও এক অধ্যাপককে অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মুহিতকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা সূত্রের তথ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তির দায়ের তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা এবং জুলাইবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগে আরও অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সিন্ডিকেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করার দাবি ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনও শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তে এসেছে প্রশাসন।
সিন্ডিকেটের সভা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এতে কাউকে দোষী পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি কোনও সংগঠনকেও যদি এতে যুক্ত পাওয়া যায়, সেটিও নিষিদ্ধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। ওই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন হওয়া সব গবেষণা কার্যক্রমের আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখা হবে।